আইপ্যাক ডিরেক্টর বিনেশ চন্ডেল জামিন পেলেন আজ। তাঁর বিরুদ্ধে আর্থিক তছরূপ ও বিভিন্ন হিসেব বহির্ভূত টাকা লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। এই আবহে ভোটের আগে গত ১৩ এপ্রিল তাঁকে গ্রেফতার করেছিল ইডি। আর রাজ্যে ভোট মেটার পরদিনই তিনি জামিন দেওয়া হয়েছে। রিপোর্টে জানানো হয়েছে, বিনেশের জামিনের আবেদনের বিরোধিতা করেনি কেন্দ্রীয় এজেন্সি।
কয়লাকাণ্ডে গ্রেফতার করা হয়েছিল বিনেশ চন্ডেল। আইপ্যাকের অর্থনৈতিক বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন বিনেশ। তদন্তকারীদের দাবি ছিল, বিভিন্ন জায়গা থেকে টাকা নিয়ে হাওয়ালা মারফত বাইরে পাঠানো হয়েছে। ইডির বক্তব্য, অন্তত ৫০ কোটি টাকার আর্থিক তছরূপ হয়েছে। থার্ড পার্টি থেকে টাকা নিয়ে হাওয়ালার মাধ্যমে লেনদেন করা হত। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই সংস্থার সঙ্গে যুক্ত অনেককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সেখান থেকেই নাম উঠে আসে বিনেশের। ইডি অভিযোগ করে, তথ্য লোপাট করার চেষ্টা করেছিলেন বিনেশ। তিনি নাকি ‘৫০ শতাংশ চেক’ নীতি চালু করেছিলেন। তাতে সংস্থার কাছে আসা পেমেন্টের ৫০ শতাংশ হত চেকে, বাকিটা নগদে। এই আবহে রাজনৈতিক দলগুলির এবং দুর্নীতির টাকা নগদে আইপ্যাকের কাছে এসেছে বলে অভিযোগ ইডির।
ইডি বলে, ২০১৯-২০২০ এবং ২০২০-২০২১ অর্থবর্ষে আইপ্যাক-এর অ্যাকাউন্টে ১৩ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা এসেছিল ‘রামসেতু ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রাইভেট লিমিটেড’ নামের একটি সংস্থা থেকে। এই অর্থ নাকি ঋণ হিসেবে নিয়েছিল আইপ্যাক। তবে উক্ত রামসেতু ইনফ্রাস্ট্রাকচার কোনও ব্যাঙ্ক বা আর্থিক সংস্থা নয়। এই আবহে ইডি সন্দেহ প্রকাশ করে, রামসেতু ইনফ্রাস্ট্রাকচার নামক সংস্থার মাধ্যমে হাওয়ালা লেনদেন করত আইপ্যাক।

এর আগে গত ৮ জানুয়ারি আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডির তল্লাশি চালিয়েছিল। সেই সময় সেখানে পৌঁছে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। খালি হাতে ঢুকে যান প্রতীকের বাড়িতে। তারপর সবুজ ফাইল হাতে বেরিয়ে আসেন। সেখানে তৃণমূলের হার্ডডিস্ক, কৌশল সংক্রান্ত নথি আছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। পরে সল্টলেকে আইপ্যাকের অফিস থেকে একগুচ্ছ নথি তোলা হয় গাড়িতে। পরে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, ছড়িয়ে-ছিটিয়ে কাগজ, নথি, ফাইল পড়েছিল। সেগুলো তৃণমূলের কাগজপত্র। সেগুলিই গাড়িতে তোলা হয়েছে বলে দাবি করেছিলেন মমতা। এদিকে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের তৎকালীন ডিজি রাজীব কুমার নাকি সেই সময় হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, আইপ্যাকের থেকে কোনও জিনিস বাজেয়াপ্ত করলে ইডি অফিসারদের গ্রেফতার করা হবে।