রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্য়ায় আর নেই! এই কঠিন সত্যিটা এখনও হজম হচ্ছে না বাঙালির। রবিবার তালসারিতে ভোলে বাবা পার করেগা-র শ্য়ুটিং করতে গিয়ে সলিল সমাধি অভিনেতার! সমুদ্রে পড়ে গিয়ে মুহূর্তেই সব শেষ! নায়িকা শ্বেতাকে উদ্ধার করতে পারলেও চেষ্টা করেও রাহুলের প্রাণ বাঁচাতে পারেনি টেকনিশিয়ানরা।
রাহুলের মৃত্যু নিয়ে হাজারো প্রশ্ন অনুরাগীদের মনে। ময়নাতদন্তের পর সোমবার দুপুরের দিকে তমলুক মহকুমা হাসপাতাল থেকে রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মরদেহ কলকাতায় নিয়ে আসা হয়েছে। দুপুর ২:৪৫ নাগাদ তাঁর মরদেহ বিজয়গড়ের বাসভবনে পৌঁছয়। প্রিয় বাবিনকে শেষবারের মতো দেখতে সেখানে জড়ো হয়েছিল গোটা পাড়া। পৌঁছেছিলেন রাহুলের সহকর্মী-বন্ধুরাও। আবার অনেকে রাহুলের নিথর দেহের মুখোমুখি হতে পারবেন না, জানিয়ে সোশ্য়াল মিডিয়া পোস্টে লেখেন- ‘দেখা হবে অন্য কোথাউ’। এদিন লাল সেলামে রাহুলকে শেষশ্রদ্ধা জানান, দীপ্সিতা ধর, শতরূপ ঘোষরা। লাল পতাকায় মোড়া হয় রাহুলের শববাহী গাড়ি। ইস্টবেঙ্গল আর আর্জেন্টিনার ভক্ত ছিলেন রাহুল। প্রিয় দলের পতাকা আর জার্সিও
প্রিয় ‘রাহুল দা’-কে শেষবার দেখতে সেখানে উপস্থিত হয়েছেন টলিউডের অনেক চেনা মুখ। চোখের জলে বন্ধু রাহুলকে শেষবিদায় জানান আবির চট্টোপাধ্যায়, গৌরব চক্রবর্তী, ঋদ্ধিমা, রূপম ইসলামরা।
এদিন রাহুলকে শেষবারের মতো দেখতে এসেছিলেন রুকমা রায়। দেশের মাটি-র নায়িকা কান্নায় লুটিয়ে পড়েন অভিনেতার দেহ দেখে। নিজেকে সামালাতে পারেননি রুকমা। কেওড়াতলায় মায়ের হাত ধরে পৌঁছায় ছোট্ট সহজ। ছেলের হাতের মন্ত্রপুত অগ্নিসংযোগেই পঞ্চভূতে লীন হবেন রাহুল।
ব্যক্তিগত পরিসরে রাহুলের শেষকৃত্য় করতে চেয়েছে পরিবার। তাঁকে শেষশ্রদ্ধা জ্ঞাপনের জন্য আলাদা করে কোনও ব্যবস্থা করা হয়নি।

ময়নাতদন্তের রিপোর্ট: প্রাথমিক ময়নাতদন্তের রিপোর্টে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, জলে ডুবে যাওয়ার কারণেই (Asphyxia due to drowning) অভিনেতার মৃত্যু হয়েছে। ওড়িশার তালসারিতে শুটিংয়ের ফাঁকে সমুদ্রে নেমে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে। সহ-অভিনেতারা তাঁদের প্রিয় বন্ধুর এই অকাল মৃত্যুতে স্তম্ভিত এবং বাকরুদ্ধ।