সুনিধি চৌহান— যাঁর কণ্ঠের জাদুতে বুঁদ গোটা বিশ্ব। কিন্তু এই সাফল্যের শিখরে পৌঁছানোর আগে ব্যক্তিগত জীবনে এক চরম অগ্নিপরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাঁকে। মাত্র ১৮ বছর বয়সে কোরিওগ্রাফার ববি খানের সঙ্গে ঘর বেঁধেছিলেন তিনি, কিন্তু সেই দাম্পত্য টিকেছিল মাত্র এক বছর। সেই বিয়ের পর পরিবার সম্পর্ক ভেঙেছিল সুনিধির সঙ্গে। ভিন ধর্মে বিয়ে মেনে নেয়নি গায়িকার বাবা-মা। অন্য়দিকে ভুল মানুষের হাত ধরে চরম মূল্য় চোকাতে হয়েছিল সুনিধিকে। গায়িকার জীবনের সেই অন্ধকারময় অধ্য়ায় নিয়ে একবার মুখ খুলেছিলেন সুনিধি।
১৮ বছরের বিয়ে কি ভুল ছিল?
সাধারণত মানুষ অল্প বয়সের ভুল বিয়েকে আফসোস হিসেবে দেখেন, কিন্তু সুনিধির ভাবনা একেবারে আলাদা। গায়িকা মনে করেন, ‘অনেকে মনে করেন ১৮ বছর বয়সে বিয়ে করাটা আমার জীবনের সবথেকে বড় ভুল ছিল। কিন্তু আমি সেটা মানি না। আজ আমি যে মানুষটা হতে পেরেছি, সেই মানুষটা হতে পারতাম না যদি আমি ওই তথাকথিত ‘ভুলগুলো’ না করতাম।’ ভালোবেসে ববির হাত ধরেছিলেন সুনিধি। গায়িকার চেয়ে প্রায় ১৫ বছরের বড় ছিল প্রাক্তন স্বামী।
অন্ধকারের মাঝেও ছিল আত্মবিশ্বাস:
ববি খানের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন চলাকালীন সুনিধি জানতেন যে তিনি সঠিক জায়গায় নেই। সেই সময়টা মনে করে তিনি বলেন ‘আমি যখন ওই সম্পর্কের মধ্যে ছিলাম, তখনই জানতাম যে আমি ভুল জায়গায় আছি। কিন্তু আমি এটাও জানতাম যে পরিস্থিতি চিরস্থায়ী হবে না। আমি জানতাম আমি শীঘ্রই এই অন্ধকার থেকে বেরিয়ে আসব।’

সমাজের চোখে ‘কলঙ্কিত’ হওয়ার লড়াই:
২০০৩ সালে মাত্র ১৯ বছর বয়সে ডিভোর্সি হওয়াটা সেই সময়ের রক্ষণশীল সমাজের কাছে ছিল এক বড় ধাক্কা। সুনিধিকে অনেক কটু কথা শুনতে হয়েছিল, কিন্তু তিনি দমে যাননি। তাঁর কথায় ‘মাত্র ১৯ বছর বয়সে ডিভোর্সি হওয়াটা তখন সহজ ছিল না। অনেকে আমাকে বাঁকা নজরে দেখতেন, আমি তখন ‘কলঙ্কিত’ ছিলাম। কিন্তু আমি সেই নেতিবাচকতাকে পাত্তা দিইনি। বরং আমি সেই সময়টাকেও এনজয় করেছি কারণ আমি নিজের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।’
‘নো রিগ্রেটস’ পলিসি:
ভুল সম্পর্ক বয়ে বেড়ানোর চেয়ে বেরিয়ে আসাটাই যে বুদ্ধিমত্তার কাজ, তা মনে করিয়ে দিয়ে সুনিধি বলেন: ‘আমি ডিভোর্সের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিন্দুমাত্র লজ্জিত বা অপরাধী (Guilty) বোধ করিনি। ভুল সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসাটাই ছিল আমার কাছে সবথেকে বড় জয়।’
ফিরে আসা এবং দ্বিতীয় বিয়ে
বিচ্ছেদের পর সুনিধির কাছে ঘর বা টাকা— কিছুই ছিল না। সেই সময় অনু মালিকের সাহায্য এবং নিজের বাবা-মায়ের সমর্থনে তিনি আবার ঘুরে দাঁড়ান। ২০১২ সালে হিতেশ সোনিকের সঙ্গে বিয়ে করে আজ তিনি এক সুখী মা এবং সফল শিল্পী।