তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম প্রবীণ নেতা ও আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের দূরত্ব কি ক্রমশ বাড়ছে? সাম্প্রতিক রাজনৈতিক মহলে এমনই জল্পনা তীব্র হয়েছে। সূত্রের খবর, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মামলায় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবর্তে অন্য আইনজীবীদের সামনে আনার বিষয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করেছে তৃণমূল নেতৃত্ব। আর সেই সিদ্ধান্ত নিয়েই দলের অভ্যন্তরে নতুন করে অসন্তোষের সুর শোনা গিয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রাম আন্দোলন থেকে শুরু করে রিজওয়ানুর রহমান মামলা, এমনকি সাম্প্রতিক নিয়োগ দুর্নীতি ও ভোটার তালিকা সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলায় তিনি দলের হয়ে আদালতে সওয়াল করেছেন। ফলে তৃণমূলের আইনজীবী মুখ হিসেবে তাঁর গুরুত্ব নিয়ে কখনও প্রশ্ন ওঠেনি।
তবে গত কয়েক মাসে পরিস্থিতি কিছুটা বদলেছে বলেই রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মত। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি মামলার দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানো এবং পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামলাও আর লড়বেন না বলে মন্তব্য করাকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। যদিও পরে প্রকাশ্যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে মতপার্থক্য মিটিয়ে ফেলেন কল্যাণ। এমনকি তাঁকে ‘পুত্রসম’ বলেও মন্তব্য করেছিলেন তিনি।
কিন্তু সূত্রের দাবি, দলের সাম্প্রতিক এক বৈঠকে ফের অসন্তোষ প্রকাশ করেন শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ। জানা গিয়েছে, বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মামলায় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি বা তাঁর পরিবর্তে অন্য আইনজীবীদের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছিল। বিশেষ করে রাজ্যসভার তৃণমূল সাংসদ ও সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী মানেকা গুরুস্বামীর নাম সামনে আসে। এই প্রস্তাব নিয়েই আপত্তি জানান কল্যাণ।
মানেকা গুরুস্বামী অতীতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলায় রাজ্য সরকার ও তৃণমূলের পক্ষে সওয়াল করেছেন। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েই তাঁকে আরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে নেতৃত্ব আগ্রহী বলে জানা যাচ্ছে। কিন্তু দলের দীর্ঘদিনের আইনজীবী মুখ হিসেবে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের একাংশের মতে, তাঁর ভূমিকা খর্ব করার চেষ্টা হলে তা অস্বস্তির কারণ হতে পারে।

এদিকে নিয়োগ দুর্নীতি, কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত এবং একাধিক আইনি লড়াইয়ের মধ্যে এমন মতবিরোধ সামনে আসায় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। যদিও তৃণমূলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। তবে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পর্ক নিয়ে যে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।