এক সময় স্ট্যান্ডিং ওভেশন ঘিরে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। নির্বাচনী ধাক্কার পর কালীঘাটে দলীয় বৈঠকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে উঠে দাঁড়িয়ে অভিনন্দন জানানোর জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন দলের একাংশের নেতা-বিধায়ক। তবে শনিবার সেই কালীঘাটেই দেখা গেল সম্পূর্ণ ভিন্ন ছবি। এবার স্ট্যান্ডিং ওভেশনের কেন্দ্রে ছিলেন তৃণমূল বিধায়ক ও দলের অন্যতম মুখপাত্র কুণাল ঘোষ।
শনিবার কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে অনুষ্ঠিত হয় তৃণমূল কংগ্রেসের জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠক। ঘটনাচক্রে সেদিনই ছিল বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষের জন্মদিন। বৈঠকে কুণাল প্রবেশ করতেই তাঁকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান তৃণমূল নেত্রী। এরপর উপস্থিত নেতা-নেত্রীদেরও উঠে দাঁড়িয়ে কুণালকে অভিনন্দন জানানোর অনুরোধ করেন তিনি। নেত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে উপস্থিত সকলেই উঠে দাঁড়িয়ে করতালির মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানান কুণালকে।
বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, সেই সময় বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তিনিও অন্যদের সঙ্গে উঠে দাঁড়িয়ে কুণাল ঘোষকে শুভেচ্ছা জানান। শুধু তাই নয়, জন্মদিন উপলক্ষে বৈঠকেই কেক আনার ব্যবস্থা করা হয়। কুণাল কেক কাটার পর উপস্থিত এক নেতা প্রস্তাব দেন, তিনি যেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেক খাইয়ে দেন। সেই প্রস্তাবে সম্মতি জানিয়ে পরস্পরকে কেক খাইয়ে দেন কুণাল ও অভিষেক।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই দৃশ্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। কারণ কয়েকদিন আগেই কালীঘাটে দলীয় বৈঠকে অভিষেক ও কুণালের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়েছিল বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছিল স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। পরে বিধানসভার সই জাল সংক্রান্ত মামলায় সিআইডির জিজ্ঞাসাবাদেও মুখোমুখি বসতে হয়েছিল দু’জনকে।
এদিনের বৈঠকে প্রাক্তন মন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদাও কুণাল ঘোষকে চকোলেট উপহার দেন। রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেও দলের প্রতি কুণালের আনুগত্যের প্রসঙ্গও উঠে আসে আলোচনায়। বিধানসভা নির্বাচনের পর দলের একাধিক নেতা ও বিধায়ক দূরত্ব বাড়ালেও কুণাল ধারাবাহিকভাবে তৃণমূল নেতৃত্বের পাশে থেকেছেন। বিরোধী শিবিরে যাওয়া বা বিক্ষুব্ধ নেতাদের সমালোচনার মুখেও দল ও নেত্রীর প্রতি তাঁর অবস্থান অটুট রয়েছে বলেই দাবি তৃণমূলের একাংশের। কালীঘাটের বৈঠকে সেই বার্তাই যেন আরও একবার স্পষ্ট হয়ে উঠল।
