দীর্ঘদিনের সংঘাত ও রক্তক্ষয়ের পর গাজা উপত্যকায় শান্তি ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার তিনি ঘোষণা করেন, একটি ঐতিহাসিক সমঝোতার মাধ্যমে হামাস এবং গাজায় সক্রিয় অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠী অস্ত্র সমর্পণে সম্মত হয়েছে। একইসঙ্গে ইজরায়েলও ধাপে ধাপে গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারে রাজি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। যদিও এই দাবি নিয়ে এখনও পর্যন্ত ইজরায়েলের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি।
নিজের সামাজিক মাধ্যম **ট্রুথ সোশ্যাল**-এ ট্রাম্প লেখেন, **‘বোর্ড অফ পিস’**-এর মধ্যস্থতায় গাজায় হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র সংগঠনের নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছে। তাঁর দাবি, এই সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেওয়ার জন্য তিনি মিশর, কাতার এবং তুরস্ককেও ধন্যবাদ জানান।
ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, এই চুক্তি ধাপে ধাপে কার্যকর করা হবে। প্রথম পর্যায়ে হামাস এবং অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠী তাদের কাছে থাকা ছোট ও বড় সব ধরনের অস্ত্র জমা দেবে। নিরস্ত্রীকরণের কাজ যত এগোবে, ততই ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF) গাজা থেকে ধাপে ধাপে সেনা সরিয়ে নেবে। একইসঙ্গে গাজায় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার দায়িত্ব নেবে একটি নতুন ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনী।
চুক্তির দ্বিতীয় ধাপে যুদ্ধ-পরবর্তী গাজা শাসনের জন্য ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা (NCAG) নামে ফিলিস্তিনি বিশেষজ্ঞদের একটি কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটি ‘বোর্ড অফ পিস’-এর সঙ্গে সমন্বয় রেখে গাজার পুনর্গঠন, প্রশাসনিক কাজ এবং সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করবে বলে জানানো হয়েছে।
মধ্যস্থতাকারী সূত্রের দাবি, এই শান্তি রূপরেখার আওতায় গাজাজুড়ে থাকা হামাসের ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ, অস্ত্রভাণ্ডার এবং অস্ত্র তৈরির কারখানাগুলিও সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করা হবে। এর মাধ্যমে গাজাকে সম্পূর্ণভাবে নিরস্ত্রীকরণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

তবে এই চুক্তি নিয়ে এখনও পর্যন্ত ইজরায়েল সরকার কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। ইজরায়েলি সূত্রের খবর, প্রস্তাবিত খসড়া নিয়ে তাদের কিছু আপত্তি রয়েছে। বিশেষ করে গাজা থেকে সমস্ত অস্ত্র সম্পূর্ণভাবে সরিয়ে ফেলার বিষয়টিকে তারা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
অন্যদিকে, হামাস-ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, মধ্যস্থতাকারী দেশগুলির মাধ্যমে প্রস্তাবিত রোডম্যাপের কয়েকটি বিষয়ে সংশোধনের অপেক্ষায় রয়েছে তারা। অর্থাৎ চুক্তির সব দিক এখনও চূড়ান্ত হয়নি বলেই ইঙ্গিত মিলছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের শুরুতেই ট্রাম্পের উদ্যোগে ‘বোর্ড অফ পিস’ আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করে। গাজার জন্য তাদের ঘোষিত ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে এই সমঝোতাকে তুলে ধরা হচ্ছে।