অবাধ বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু করতে ‘টার্ম অব রেফারেন্স’ স্বাক্ষর করল ভারত এবং ‘গাল্ফ কোঅপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি)। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের কয়েকদিন পরেই এই খবর প্রকাশ্যে আসল।
জিসিসি তৈরি হয়েছে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, কাতার, কুয়েত, ওমান এবং বাহরিনকে নিয়ে। বৃহস্পতিবারই ভারত ও গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তির লক্ষ্যে ‘টার্ম এফ রেফারেন্স’ (টিওআর) স্বাক্ষরিত হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল এবং জিসিসি-এর মহাসচিব জাসেম আল-বুদাইউই নয়া দিল্লিতে টিওআর-তে স্বাক্ষর করেন। ‘টার্ম অব রেফারেন্স’ মানে প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তির কাঠামো, রূপরেখা, পদ্ধতি। কাদের সঙ্গে কী ভাবে কোন লক্ষ্য পূরণে চুক্তি করার কথা ভাবা হচ্ছে, তার যাবতীয় তথ্য থাকে তাতে। এই প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, ‘শক্তিশালী’ বাণিজ্য ব্যবস্থা পণ্য ও পরিষেবার বৃহত্তর অবাধ প্রবাহকে সক্ষম করবে এবং বিনিয়োগে উৎসাহিত করবে।’ সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুসারে, পীযূষ গোয়েল বলেছেন, জিসিসি-র সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি ভারতের জ্বালানি উৎসের বৈচিত্র্য আনতে সাহায্য করবে।
তাঁর এই মন্তব্য এমন সামনে এসেছে, যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করতে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলা থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে আরও তেল কিনতে সম্মত হয়েছেন। তবে, ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এখনও এই বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি। সম্প্রতি ভারত সফরে এসেছিলেন সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। তাঁর এই সফরের মধ্যেই বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে জল্পনা চলছিল। শেষ পর্যন্ত সেই চুক্তি বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর প্রেসিডেন্ট মাত্র তিন ঘন্টা ভারতে ছিলেন। সেই সময়ের মধ্যে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠক করেন। উভয় রাষ্ট্রনেতাই দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়ে পর্যালোচনা করেছিলেন।

ভারত ও জিসিসি
এর আগে ভারত ও জিসিসি-র মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলেছিল ২০০৬ এবং ২০০৮-এ। তৃতীয় দফাটি পিছিয়ে যায় তারা কথা বন্ধ করে দেওয়ায়। এবার সেটাই নতুন করে শুরু হতে চলেছে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য চুক্তি আছে। সে ক্ষেত্রে এটা হবে আরবের দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের দ্বিতীয় বাণিজ্য চুক্তি। ওমানও ভারতের সঙ্গে পৃথক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সই করেছে। ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে জিসিসিভুক্ত দেশগুলোতে ভারত ৫১ বিলিয়ন বা ৫ হাজার ১০০ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে এপ্রিল-আগস্টে জিসিসিতে আরও ২১ বিলিয়ন বা ২ হাজার ১০০ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে ভারত। জিসিসিতে ভারত তেলজাত পণ্য, মূল্যবান রত্ন, অলংকার, রাসায়নিক ও শস্য রপ্তানি করে। ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে জিসিসি থেকে ভারত ১৩৩ বিলিয়ন বা ১৩ হাজার ৩০০ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। শেষ অর্থবর্ষে এপ্রিল-আগস্ট সময়ে করেছে ৩৯ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ৯০০ কোটি ডলারের পণ্য।