ইরানের তেল বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করল যুক্তরাষ্ট্র

Spread the love

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ সংকট কাটাতে ইরানের কিছু তেল পরিবহন ও বিক্রির ওপর থেকে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে যে বিরূপ প্রভাব তৈরি হয়েছে তা নিয়ন্ত্রণে আনতেই এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের ক্রমবর্ধমান দাম ও সরবরাহের ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগের কারণে এরইমধ্যে জাহাজে তোলা হয়েছে এমন ইরানি তেলের ওপর থেকে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হচ্ছে। এই অনুমতির ফলে ২০ মার্চের আগে জাহাজে তোলা ইরানের অপরিশোধিত তেল ও অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্য ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত খালাস ও বিক্রি করা যাবে।

এ পদক্ষেপকে দীর্ঘদিনের মার্কিন নীতির এক অভূতপূর্ব পরিবর্তন হিসেবেই দেখা হচ্ছে। যদিও এ থেকে কতটা সুফল মিলবে তা এখনও অনিশ্চিত।

যদিও যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপের ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামের ওপর খুব একটা ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা নেই বলেই মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। বরং এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণের শিকার ইরানি শাসকগোষ্ঠীকে অর্থ আয়ের মাধ্যমে তহবিল গঠনের সুযোগ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলেই মনে করেন তারা।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এই যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই জাহাজ চলাচল এবং জ্বালানি উৎপাদনের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বেড়েই চলেছে।

শুক্রবার মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানান, এ অনুমতি শুধুমাত্র বর্তমানে জাহাজে বোঝাই থাকা ইরানে উৎপাদিত অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এছাড়া এ অনুমোদন আগামী ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত কার্যকর থাকবে বলেও জানিয়েছে মার্কিন অর্থ দফতর।

যুদ্ধের আগে, ইরান থেকে সরবরাহ করা তেলের প্রধান ক্রেতা ছিল চীন। ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের নিষেধাজ্ঞার কারণে খুব কম দামে এই তেল কিনে নিত বেইজিং।

এর আগে বৃহস্পতিবার ফক্স বিজনেসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী বলেন, ইরানের জ্বালানি বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার ফলে ভারত, জাপান ও মালয়েশিয়ার মতো দেশগুলোর আরও বেশি তেল পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হবে। একই সাথে চীনকেও প্রকৃত ‘বাজার দর’ পরিশোধে বাধ্য করবে এই সিদ্ধান্ত।

তবে এই প্রক্রিয়ায় তেল বিক্রির অর্থ যাতে ইরান সরকারের হাতে না পৌঁছায় সে বিষয়ে কোনো নিয়ম থাকবে কিনা, তা নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি যুক্তরাষ্ট্র।

এদিকে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান গুটিয়ে আনার ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। একইসঙ্গে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহের সংকট মোকাবিলায় ইরানের তেল পরিবহনের ওপর থেকে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে ওয়াশিংটন।

স্থানীয় সময় শুক্রবার (২০ মার্চ) মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেয়া এক পোস্টে লিখেছেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের বিশাল সামরিক প্রচেষ্টাকে গুটিয়ে আনার কথা ভাবছি আমরা। কারণ, আমাদের লক্ষ্য অর্জনের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছি।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *