ইরানের বিরুদ্ধে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের

Spread the love

ইরানের বিরুদ্ধে অত্যাধুনিক হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘ডার্ক ইগল’ মোতায়েনের কথা ভাবছেযুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এরই মধ্যে এই শক্তিশালী অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছে। মূলত ইরানের গভীরে অবস্থিত ব্যালিস্টিক-ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলোতে আঘাত হানতে চায় তারা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে এমনটা জানানো হয়েছে।

অনুমোদন পেলে যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবারের মতো মধ্যপ্রাচ্যে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করবে। রাশিয়া ও চীন তাদের নিজস্ব প্রযুক্তির হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করলেও এক্ষেতে ওয়াশিংটন অনেক পিছিয়ে আছে। এমনকি এটাকে এখনও তারা পুরোপুরি সক্রিয় বলেও ঘোষণা করেনি।

সেন্টকমের দাবি, ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারগুলোকে বর্তমানে ব্যবহৃত ‘প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল’-এর আওতার বাইরে সরিয়ে নিয়েছে। ৩০০ মাইলের বেশি পাল্লার ওই ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে এখন আর লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত আঘাত হানা সম্ভব হচ্ছে না বলেই হাইপারসনিক অস্ত্রের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। তবে মার্কিন প্রশাসন এ বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে জানায়নি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান বিরোধী সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। প্রায় পাঁচ সপ্তাহের সংঘাতের পর গত মাসের ৮ এপ্রিল দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এরপর নতুন করে আলোচনা শুরু হলেও এক পর্যায়ে তা থমকে যায়। ইরান নতুন করে আলোচনায় বসতে অস্বীকৃতি জানালেও গত ২১ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ‘অনির্দিষ্টকালের জন্য’ বাড়ান প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।

ইরান বারবার বলছে, হরমুজ প্রণালী ও ইরানি বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ তুলে না নেয়া পর্যন্ত কোনো আলোচনা নয়। চলতি সপ্তাহে পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতুন একটি প্রস্তাব দেয় তেহরান। প্রস্তাবে যুদ্ধাবসানের বিনিময়ে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেয়ার কথা বলা হয় এবং তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পরবর্তী কোনো তারিখে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়।

তবে ইরানের দেয়া নতুন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন ট্রাম্প। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, পরমাণু চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত নৌ-অবরোধ বহাল থাকবে। গত বুধবার (২৯ এপ্রিল) মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি ত্যাগ করতে এবং ওয়াশিংটনের উদ্বেগের সমাধান করতে রাজি না হওয়া পর্যন্ত কোনো শান্তি চুক্তি হবে না। ততক্ষণ পর্যন্ত ইরানের ওপর নৌ-অবরোধও অব্যাহত থাকবে।

আলোচনায় অচলাবস্থা ভাঙার আশায় মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের ওপর একটি ‘স্বল্প ও শক্তিশালী’ হামলার পরিকল্পনা প্রস্তুত করেছে বলে জানায় মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের পরিকল্পনার খবর সামনে আসে। এই খবর পুরো অঞ্চলে নতুন উত্তেজনা ছড়িয়েছে।  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *