ইসরাইলের হামলার মুখে ঐক্যের ডাক হিজবুল্লাহ প্রধানের

Spread the love

লেবাননে ইসরাইলের হামলা অব্যাহত থাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর প্রধান নাঈম কাসেম জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে হামলার মধ্যে ইসরাইলের সঙ্গে আলোচনায় না বসতে লেবানন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক আগ্রাসন শুরু করে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র। হামলায় প্রথম দিনই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা নিহত হন। জবাবে পাল্টা হামলা শুরু করে ইরান। এই লড়াইয়ে মিত্র হিসেবে ইরানের সঙ্গে যোগ দিয়েছে লেবাননের সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহ।

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে গত ২ মার্চ থেকে ইসরাইলের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করে হিজবুল্লাহ। ফলে ইসরাইলি বাহিনীর পাল্টা শিকার হচ্ছে। রাজধানী বৈরুতসহ লেবাননজুড়ে নজিরবিহীন বিমান হামলা চালাচ্ছে ইসরাইল।

সেই সঙ্গে চলছে স্থল অভিযানও। ইসরাইল দাবি করেছে, তারা লেবাননের ভেতর একটি ‘নিরপেক্ষ অঞ্চল (বাফার জোন)’ তৈরি করেছে এবং তা সম্প্রসারণ করছে। ২০০০ সালের আগ পর্যন্ত প্রায় দুই দশক লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল ইসরাইলের দখলে ছিল।

এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি দ্রুতই বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা। সরকারি হিসেবে, এখন পর্যন্ত সহস্রাধিক বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে হিজবুল্লাহর পাশে না দাঁড়িয়ে উল্টো ইসরাইলের সঙ্গে দরকষাকষি করার উদ্যোগ নেন লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন।

তবে তার এই উদ্যোগে সাড়া দেননি নেতানিয়াহু। তবে এই পরিস্থিতিতে ইসরাইলের সঙ্গে আলোচনায় না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন হিজবুল্লাহ প্রধান। গত বুধবার (২৫ মার্চ) এক বিবৃতিতে নাঈম কাসেম বলেন, ‘লেবাননের সামনে এখন দুটি পথ খোলা আছে: ‘হয় আত্মসমর্পণ করে নিজেদের ভূমি ছেড়ে দেয়া… অথবা ইসরাইলের বিরুদ্ধে অনিবার্য সংঘাত ও প্রতিরোধ।’

হিজবুল্লাহ প্রধান জানান, নিরবচ্ছিন্ন হামলার মুখে ইসরাইলের সঙ্গে আলোচনা চলতে পারে না। এই ধরনের কোনো উদ্যোগ সফল হতে দেবেন না বলেও অঙ্গীকার করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘হামলা বন্ধ না করে ইসরাইলি সেনার সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে, যা আত্মসমর্পণের শামিল।’

ঐক্যের ডাক দিয়ে তিনি বলেন, ‘এই পর্যায়ে আমরা ইসরাইলি-মার্কিন শত্রুর বিরুদ্ধে একটিমাত্র শিরোনামে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানাচ্ছি: ভূমি ও জনগণকে মুক্ত করার জন্য আগ্রাসন বন্ধ করা। অন্য সব বিষয় পরে আলোচনা করা যেতে পারে।’

এদিকে ইসরাইল লেবাননের বিরুদ্ধে হামলা অব্যাহত রেখেছে। সীমান্ত থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরের একটি অবস্থান থেকে লিটানি নদী পর্যন্ত ভূখণ্ড দখলে নিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। এ অংশটিকেই তারা ‘বাফার জোন’ বা নিরপেক্ষ এলাকা দাবি করছে।

ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানান, সামরিক বাহিনী ইতোমধ্যে একটি ‘প্রকৃত নিরাপত্তা জোন’ তৈরি করেছে এবং এখন সেটার সম্প্রসারণ করে লেবাননের অভ্যন্তরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, ইসরাইলের বিরুদ্ধে যাতে স্থল পথে ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা না আসে, তা নিশ্চিত করতে আরও বড় নিরাপত্তা জোন তৈরি করা হচ্ছে। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *