অবৈধ অভিবাসন রোধে চালানো এক সমন্বিত অভিযানে ৬২ নাইজেরীয়সহ ২৩১ জনকে আটক করেছে উগান্ডার পুলিশ। আটকদের মধ্যে বাংলাদেশি, ভারতীয়, পাকিস্তানিসহ আরও কয়েকটি দেশের নাগরিক রয়েছে।এক বিবৃতিতে উগান্ডার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত সোমবার (২৭ এপ্রিল) গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানী কাম্পালার আদজুমানি, বুকোটো-নটিন্ডা এলাকায় দুটি অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়েছে।আটকদের মধ্যে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ছাড়াও ঘানা, মিয়ানমার, ইথিওপিয়া, শ্রীলঙ্কা, কম্বোডিয়া এবং মালয়েশিয়ার নাগরিক রয়েছে বলে জানা গেছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াই বিপুল সংখ্যক বিদেশি উগান্ডায় বসবাস বা কাজ করছেন—এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালনা করা হয়েছিল অভিযান। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ১৬৯ জন পুরুষ, বাকি ৬২ জন নারী। তাদের কারো কাছ থেকে উগান্ডায় বসবাসের জন্য প্রয়োজনীয় কোনো বৈথ নথি বা কাগজপত্র পায়নি উগান্ডার পুলিশ। এমনকি অনেকের কাছে পাসপোর্টও পাওয়া যায়নি।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘কিছু লোকের দাবি- চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাদের উগান্ডায় পাচার করা হয়েছে। অন্যরা সাইবার-স্ক্যামিং কার্যকলাপে জড়িত ছিল। কয়েকজনের কাছে এমন সামগ্রী পাওয়া গেছে, যা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার ইঙ্গিত দেয়।’
উগান্ডার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাইমন পিটার মুন্ডেয়ি মার্কিন বার্তাসংস্থা এপিকে বলেন, আটকদের তিন ভাগে ভাগ করায়েছে—সন্দেহভাজন পাচারের শিকার, অভিযুক্ত অপরাধী এবং ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ায় অবৈধভাবে বসাবাস করলেও কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত নন। এই তিন গ্রুপকে আলাদা করা হয়েছে এবং পৃথকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

মুন্ডেয়ি জানান, পাচারের শিকাররা এবং ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও থেকে যাওয়া ব্যক্তিদের টিকিট কিনে উগান্ডা ছাড়তে সহায়তা করা হবে। এছাড়া কর্তৃপক্ষ যাদের পাচারের মূল হোতা হিসেবে চিহ্নিত করবে, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে নিজেদের দেশে ফেরত পাঠানো হবে।