সাত বছর স্থগিত থাকার পর ভেনেজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্যিক ফ্লাইট কার্যক্রম আবারও চালু হয়েছে। নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণ দেখিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি দফতর দুই দেশের মধ্যে যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছিল। খবর আল জাজিরার।
প্রতিবেদন মতে, বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ১১ মিনিটে আমেরিকান এয়ারলাইন্সের একটি প্রাদেশিক সহযোগী সংস্থা এনভয় এয়ার পরিচালিত ফ্লাইট এএ৩৫৯৯ ফ্লোরিডার মায়ামি থেকে কারাকাসের উদ্দেশে যাত্রা করে। প্রায় ৩ ঘণ্টা পর সেটি কারাকাসে গিয়ে পৌঁছায়। এরপর কারাকাস থেকে ফ্লোরিডায় ফিরে যায় ফ্লাইটটি।সম্প্রতি ওয়াশিংটন-কারাকাস সম্পর্কে নাটকীয় পরিবর্তন ঘটেছে। কয়েক মাসের হুমকি-ধামকির পর চলতি বছরের জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার সামরিক অভিযান চালিয়ে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও স্ত্রীকে অপহরণ করে মার্কিন বাহিনী। এরপর ধীরে ধীরে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
তারই ধারাবাহিকতায় সাত বছর পর দুই দেশের মধ্যে সরাসরি এবং নিরবচ্ছিন্ন বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালু হলো। ২০১৯ সালের পর থেকে এতদিন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভেনেজুয়েলা আসার জন্য অন্যান্য দেশ হয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হতো যাত্রীদের।
মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে জানায়, ‘প্রায় সাত বছর যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে কোনো সরাসরি বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালু ছিল না। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অধীনে আজ আমরা সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন করতে পেরেছি। মায়ামি ও কারাকাসের মধ্যে ফ্লাইট চালু হয়েছে।’
মায়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আমেরিকান এয়ারলাইন্স ছোট একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই ফ্লাইট আবারও চালু করে। এ সময়ে বিমানবন্দরের বহির্গমন গেট ভেনেজুয়েলার পতাকা ও পতাকার হলুদ, নীল অ লাল রঙের বেলুন দিয়ে সাজানো হয়।

৭৫ জন যাত্রী ধারণে সক্ষম একটি এমব্রায়ার ই১৭৫ জেটবিমানের মাধ্যমে ফ্লাইটটি পরিচালনা করা হয়। যাত্রীরা উৎফুল্ল থাকলেও অনেকেই টিকিটের উচ্চ মূল্য নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি মার্কিন ভিসা পাওয়ার কঠোর বিধিরও সমালোচনা করেন কেউ কেউ।