উত্তরবঙ্গের সাম্প্রতিক প্রচণ্ড বর্ষণ, ধস ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শিক্ষা পরিকাঠামো।এনিয়ে রিপোর্ট পেশ করা হয়েছে। রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে মোট ১৭৩টি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৯৪টি এবং হাইস্কুল ৭৯টি। কোথাও দেওয়াল ভেঙেছে, কোথাও শ্রেণিকক্ষ, ছাদ বা সীমানা প্রাচীর ভেঙে গেছে। এমনকি কয়েকটি ক্ষেত্রে সিঁড়ি, পাইলার এবং টয়লেটও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে রিপোর্ট থেকে জানা গেছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে শিক্ষা দফতর পুজোর ছুটির মধ্যেই পর্যালোচনা করে দ্রুত সংস্কার করতে তৎপর হয়েছে।
ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসন ও ব্লক পর্যায় থেকে ক্ষতিগ্রস্ত স্কুলগুলির তালিকা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং সেই তালিকা রাজ্যকে পাঠানো হয়েছে। দার্জিলিং জেলার পাহাড়ি অঞ্চলে পরিস্থিতি তুলনায় খারাপ। সেখানে ৩০টির বেশি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত। স্থানীয়ভাবে হাইস্কুলের সংখ্যা প্রায় ২০টি এবং প্রাথমিক স্কুল ১২টি। বিভিন্ন ব্লক যেমন দুধিয়া, লোয়ার ব্লুমফিল্ড, পেডিখোলা, ঘুম, টুংসুং বিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রশাসনের এক আধিকারিক জানান, কিছু প্রাথমিক স্কুলে ছাত্রসংখ্যা ন্যূনতম হওয়ায় সেখানকার ক্ষতি আপাতত সীমিত প্রভাব ফেললেও একাধিক স্কুলে পাহাড় ধসে বোল্ডার পড়ে মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। সামগ্রিকভাবে দশটিরও বেশি বিদ্যালয়ের দেওয়াল ভাঙচুর, তিন-চারটির ছাদ ধ্বসে পড়া, কয়েকটির শ্রেণিকক্ষ ও পিলারে ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া জলের পাইপলাইন ও টয়লেট নষ্ট হওয়ার মতো পরিস্থিতি ধরা পড়ে।
অভিভাবক ও স্থানীয়দের একাংশের দাবি, পুজো ছুটিতেই ঠিকমতো মেরামত শুরু না করলে স্কুল খোলার পর শিক্ষার্থীর উপস্থিতিতে কাজ করাতে গেলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকবে। তাই তৎপরতার ওপর জোর দিয়ে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে শিক্ষা দফতর দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। দার্জিলিং জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক তাপস বিশ্বাস বলছেন, ব্লক প্রশাসনের সহযোগিতায় তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে এবং শীঘ্রই মেরামত কাজ শুরু হবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বই-সামগ্রী বিতরণও করা হয়েছে। উল্লেখ্য, প্রশাসনের পক্ষ থেকে উত্তরবঙ্গের শিক্ষার উন্নয়নে ইতিমধ্যেই বড় অঙ্কের বরাদ্দের কথা বলা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এই দুর্যোগজনিত ক্ষতিগ্রস্ত স্কুলগুলিকে অগ্রাধিকাররের ভিত্তিতে সংস্কার করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
