ট্রাম্পের ‘ভারত-চিন বিদ্বেষী’ রিপোস্টের বিরুদ্ধে সরব ইরান

Spread the love

ভারত ও চিনকে ‘নরককুণ্ড’ আখ্যা দেওয়া ‘বর্ণবিদ্বেষী’ চিঠি পোস্ট করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সেটার বিরোধিতায় সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করল হায়দরাবাদে অবস্থিত ইরানি কনস্যুলেট। এই দুই দেশকে ‘সভ্যতার আঁতুড়ঘর’ বলে আখ্যা দেওয়া হয় ইরানের কনস্যুলেটের পোস্টে। তাতে লেখা হয়, ‘চিন এবং ভারত সভ্যতার আঁতুড়ঘর। নরককুণ্ড তো সেই জায়গা, যেখানকার প্রেসিডেন্ট ইরানের সভ্যতাকে মুছে ফেলার হুমকি দেন এবং যুদ্ধ অপরাধ সংগঠিত করেন।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকান রেডিয়ো উপস্থাপক মাইকেল স্যাভেজের একটি চিঠি পুনরায় পোস্ট করেন, এবং তা নিয়ে দেখা দেয় বিতর্ক। সেই চিঠিতে ভারত, চিন এবং অন্যান্য দেশগুলোকে ‘নরককুণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব আইনে পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে এই চিঠি লিখেছিলেন মাইকেল স্যাভেজ। তবে তাঁর সেই চিঠিতে বর্ণবিদ্বেষ ফুটে উঠেছে। চিঠিতে মাইকেল স্যাভেজ দাবি করেন, ভারত ও চিনের মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে আসে ‘নবম মাসে একটি শিশুর জন্ম দিতে’।

জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব ইস্যুতে গণভোট করানোর দাবি তোলেন মাইকেল স্যাভেজ। তাঁর মতে এই বিষয়টি আদালতের কাছে ছেড়ে দেওয়া উচিত না। এই নিয়ে স্যাভেজ লেখেন, ‘এখানে একটি শিশু জন্ম নেওয়ার মুহূর্তেই নাগরিক হয়ে যায়। আর তারপর তারা চিন, ভারত বা পৃথিবীর অন্য কোনও নরককুণ্ড থেকে তাদের পুরো পরিবারকে নিয়ে চলে আসে।’ এই চিঠিতে তিনি ভারতীয় এবং চিনা অভিবাসীদের ‘ল্যাপটপ হাতে গ্যাংস্টার’ বলে আখ্যা দেন। তাঁর অভিযোগ, এই অভিবাসীরা নাকি মার্কিন পতাকায় পা রেখেছে।

ট্রাম্পের পোস্ট করা চিঠিতে লেখা, ‘ভারতীয় এবং চিনা অভিবাসীরা আমেরিকার যা ক্ষতি করেছে, তা সব মাফিয়া পরিবার মিলেও করেনি।’ স্যাভেজের দাবি, জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের নিয়মের জেরে আমেরিকায় নাকি ‘জন্ম পর্যটন’ বেড়েছে। প্রসঙ্গত, একদিন আগেই ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, বিশ্বে নাকি আমেরিকা ছাড়া আর কোনও দেশ জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব দেয় না। যদিও ট্রাম্পের এই দাবি মিথ্যা। কানাডা, মেক্সিকো সহ বিশ্বের অন্তত ৩৬টি দেশ জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব প্রদান করে থাকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *