৯০ বছরের শ্বশুরের চিকিৎসা করাতে গিয়ে চরম ভোগান্তির অভিযোগ তুললেন অভিনেত্রী সংঘশ্রী সিনহা। ফেসবুক লাইভে এসে কলকাতার এক নামী বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় গাফিলতি, রোগ সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়া এবং অতিরিক্ত বিল করার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ করেন তিনি। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। এমনকী, নিজের ফেসবুক লাইভে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারি, পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, পাপিয়া অধিকারি, রুদ্রনীল ঘোষকে ট্যাগও করেন তিনি।
টলিউডের অত্যন্ত জনপ্রিয় মুখ সংঘশ্রী। মেগা সিরিয়াল থেকে বড় পর্দা, এমনকী ওটিটি প্ল্যাটফর্মেও নিজের অভিনয়ের ছাপ রেখেছেন তিনি। হাসিখুশি এবং স্পষ্টবক্তা হিসেবেই ইন্ডাস্ট্রিতে পরিচিত। তবে সম্প্রতি নিজের জীবনের এক তিক্ত অভিজ্ঞতা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাগ করে নিলেন অভিনেত্রী।
নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে একটি লাইভ ভিডিয়ো করে সংঘশ্রী জানান, তাঁর ৯০ বছর বয়সী শ্বশুরমশাই, যিনি একজন প্রাক্তন নৌসেনা কর্মী, অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাঁকে যাদবপুরের একটি নামি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত আট দিন ধরে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন। কিন্তু চিকিৎসার পুরো প্রক্রিয়া জুড়েই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন অভিনেত্রী।
লাইভে এসে সংঘশ্রীর অভিযোগ, হাসপাতাল চিকিৎসার নামে তাঁদের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা নিচ্ছে, অথচ রোগীর ঠিক কী হয়েছে, তার কোনও স্পষ্ট উত্তর দিচ্ছে না। তাঁর দাবি, একেক সময় একেক রকম রোগের কথা বলা হচ্ছে। কখনও চিকিৎসকেরা বলছেন রোগীর ক্যানসার হয়েছে, আবার কখনও বলা হচ্ছে তিনি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। কিন্তু সঠিক রোগ নির্ণয় না করেই একের পর এক ব্যয়বহুল পরীক্ষা করানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

অভিনেত্রী আরও দাবি করেন, হাসপাতালের বেড চার্জ ও অন্যান্য চিকিৎসা খরচের বাইরেও বিভিন্ন সামগ্রীর জন্য আলাদা করে বিপুল অঙ্কের বিল করা হয়েছে। তাঁর কথায়, শুধুমাত্র তুলো, স্যানিটাইজার এবং কিছু ওষুধের নাম করে ৪৪ হাজার টাকারও বেশি বিল নেওয়া হয়েছে। চিকিৎসার নামে এই বিপুল অঙ্কের টাকা নেওয়ার পরেও রোগীর শারীরিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি বলেও অভিযোগ করেন সংঘশ্রী।