এক ধাক্কায় সিলিন্ডারের দাম কমল ১৭৪ টাকা

Spread the love

মাসের শুরুতেই স্বস্তির খবর পেল হোটেল, রেস্তরাঁ এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। ১ জুলাই থেকে ১৯ কেজির বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দাম এক ধাক্কায় ১৭৪ টাকা কমানো হয়েছে। নতুন দামে কলকাতায় একটি বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের মূল্য দাঁড়িয়েছে ৩,০৮১ টাকা ৫০ পয়সা। তবে গৃহস্থালিতে ব্যবহৃত ১৪.২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দামে কোনও পরিবর্তন আনা হয়নি। কলকাতায় তার দাম আগের মতোই ৯৬৮ টাকা রয়েছে।

প্রতি মাসের প্রথম দিন আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের ওঠানামা এবং আমদানি ব্যয়ের ভিত্তিতে তেল বিপণন সংস্থাগুলি এলপিজির নতুন দাম ঘোষণা করে। গত কয়েক মাস ধরে বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম ধারাবাহিকভাবে বেড়েই চলছিল। বছরের শুরুতে, ১ জানুয়ারি, বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম এক লাফে ১১১ টাকা বাড়ানো হয়। এরপর ফেব্রুয়ারিতে আরও ৪৯ টাকা এবং মার্চে ৩১ টাকা বৃদ্ধি পায়।

এপ্রিল মাসে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ায় বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম এক ধাক্কায় ২১৮ টাকা বেড়ে যায়। মে মাসেও মূল্যবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত ছিল এবং জুন মাসে আরও ৫৩ টাকা দাম বাড়ানো হয়। টানা এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে হোটেল, রেস্তরাঁ, খাবারের দোকান এবং অন্যান্য ছোট ব্যবসায়ীদের পরিচালন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গিয়েছিল।

সম্প্রতি পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারেও জ্বালানির দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল হয়েছে। ইরান-সংক্রান্ত উত্তেজনা প্রশমিত হওয়ার পর এলপিজি সরবরাহ ব্যবস্থাও আগের অবস্থায় ফিরতে শুরু করেছে। সেই প্রেক্ষাপটেই কেন্দ্র বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

১৯ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার মূলত হোটেল, রেস্তরাঁ, ক্যাটারিং সংস্থা, মিষ্টির দোকান এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে ব্যবহার করা হয়। ফলে এই মূল্যহ্রাসে ব্যবসায়ীদের খরচ কিছুটা কমবে এবং তার ইতিবাচক প্রভাব খাদ্য ও পরিষেবা খাতেও পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

তবে সাধারণ গ্রাহকদের জন্য আপাতত স্বস্তি নেই। গৃহস্থালির ১৪.২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গৃহস্থালির গ্যাসের দাম কমবে কি না, তা নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের ভবিষ্যৎ দামের গতিপ্রকৃতি, ডলারের বিনিময় হার এবং কেন্দ্রের মূল্য নির্ধারণ নীতির ওপর। ফলে সাধারণ পরিবারের নজর এখন আগামী মাসের মূল্য সংশোধনের দিকেই।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *