তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে চালু হওয়া ‘সেবাশ্রয়’ স্বাস্থ্য প্রকল্পকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার উদ্দেশ্যে শুরু হওয়া এই প্রকল্পে দুর্নীতি, নিম্নমানের ওষুধ ব্যবহার এবং স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের অর্থ অপব্যবহারের অভিযোগ তুলেছে বিজেপি। ফলতার বিজেপি বিধায়ক দেবাংশু পণ্ডার অভিযোগ, সেবাশ্রয় শিবিরে আধুনিক চিকিৎসার ওষুধ ও প্রেসক্রিপশন দিচ্ছিলেন হোমিওপ্যাথি, আয়ুষ এবং জুনিয়র চিকিৎসকেরা। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে ৭৫ দিনের জনকল্যাণমূলক স্বাস্থ্য কর্মসূচি হিসেবে ‘সেবাশ্রয়’-এর সূচনা হয়। পরে নন্দীগ্রাম-সহ রাজ্যের একাধিক জেলায় এই স্বাস্থ্য শিবিরের আয়োজন করা হয়। প্রকল্পের মাধ্যমে দরিদ্র মানুষদের বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ দেওয়ার দাবি করা হয়েছিল। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই কর্মসূচি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসংযোগ বাড়াতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল।
তবে কয়েক সপ্তাহ আগে ডায়মন্ড হারবার মহকুমার সরিষার হিঞ্চাবেড়িয়া এলাকায় মাটির নিচে বিপুল পরিমাণ ওষুধ উদ্ধার হয়। উদ্ধার হওয়া ওষুধের প্যাকেটে ‘সেবাশ্রয়’-এর লোগো ছিল বলে অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসে। এবার সেই অভিযোগ আরও গুরুতর আকার নিয়েছে।
বিজেপি বিধায়ক দেবাংশু পাণ্ডার দাবি, সেবাশ্রয় শিবিরে পর্যাপ্ত যোগ্যতাসম্পন্ন আধুনিক চিকিৎসক না রেখে জুনিয়র ডাক্তার, হোমিওপ্যাথি এবং আয়ুষ চিকিৎসকদের দিয়ে আধুনিক চিকিৎসার প্রেসক্রিপশন লিখিয়ে রোগীদের চিকিৎসা করানো হতো। তাঁর আরও অভিযোগ, যে বিপুল পরিমাণ ওষুধ মাটির নিচে উদ্ধার হয়েছে, সেগুলি ভুয়ো বা নিম্নমানের হতে পারে। না হলে সেগুলি গোপনে পুঁতে রাখার কোনও কারণ থাকতে পারে না বলে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
এদিকে, সংবাদমাধ্যমে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সেবাশ্রয় শিবিরে যুক্ত এক চিকিৎসকও একাধিক অভিযোগ করেছেন। তাঁর দাবি, চিকিৎসা পরিষেবা বিনামূল্যে দেওয়া হলেও রোগীদের এমআরআই, সিটি স্ক্যান-সহ বিভিন্ন পরীক্ষার পরামর্শ দেওয়া হতো। এরপর সংশ্লিষ্ট বেসরকারি হাসপাতালের বিপণন বিভাগের কর্মীরা রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি করানোর ব্যবস্থা করতেন। অভিযোগ, স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন চিকিৎসার খাতে ১০ থেকে ১২ দিন রোগীদের ভর্তি রেখে মোটা অঙ্কের বিল তৈরি করা হতো এবং সেই অর্থ সরকারি স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প থেকে মিটিয়ে নেওয়া হতো।

তবে এই সমস্ত অভিযোগের কোনও স্বাধীন বা সরকারি যাচাই এখনও হয়নি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কিংবা তৃণমূল কংগ্রেসও এ বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি। বিজেপি সূত্রে দাবি, এই অভিযোগের ভিত্তিতে ডায়মন্ড হারবারে নতুন করে একটি এফআইআর দায়ের করা হবে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং তদন্তের অগ্রগতির দিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।