ক্যানিংয়ের মৌখালিতে তৃণমূল নেতা তথা ক্যানিং পূর্বের প্রাক্তন বিধায়ক শওকত মোল্লার ছেলে ইমরান মোল্লার মালিকানাধীন ক্যাফেটেরিয়ায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বুলডোজার চালাল প্রশাসন। অভিযোগ, মাতলা নদীর চর এবং সেচ দপ্তরের জমি দখল করে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে নির্মাণ করা হয়েছিল ‘অরণ্যের কুলে’ নামে এই ক্যাফেটি। পূর্বে নোটিস দেওয়ার পর এদিন প্রশাসনের উপস্থিতিতে ভাঙার কাজ শুরু হয়। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এলাকাজুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মৌখালি সেতু সংলগ্ন এলাকায় রাস্তার ধারে মাতলা নদীর চরের ওপর ক্যাফেটি গড়ে তোলা হয়েছিল। অভিযোগ, শওকত মোল্লা বিধায়ক থাকাকালীনই তাঁর ছেলে ইমরান মোল্লা এই ক্যাফেটি নির্মাণ করেন এবং দীর্ঘদিন ধরে সেখানে ব্যবসাও চলছিল। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের পর বিষয়টি নতুন করে প্রশাসনের নজরে আসে।
ভাঙড় বিস্ফোরণকাণ্ডে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)-র হাতে শওকত মোল্লা গ্রেপ্তার হওয়ার পর তদন্ত চলাকালীন ইমরান মোল্লার এই ক্যাফেটি নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এরপর ক্যাফের বৈধ কাগজপত্র জমা দেওয়ার জন্য ইমরান মোল্লাকে মহকুমাশাসকের দফতরে তলব করা হয়। প্রশাসনের দাবি, জমা পড়া নথি খতিয়ে দেখে দেখা যায়, ক্যাফেটি সেচ দপ্তরের জমি দখল করে তৈরি করা হয়েছে এবং এর জন্য প্রয়োজনীয় কোনও বৈধ অনুমতি বা ছাড়পত্র নেই। তদন্তে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর মহকুমাশাসক ক্যাফেটি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন।
সেই নির্দেশ কার্যকর করতে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই বুলডোজার নিয়ে হাজির হয় প্রশাসন। একের পর এক অংশ ভেঙে ফেলা শুরু হয় ঝাঁ-চকচকে ক্যাফেটির। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন ক্যানিং মহকুমার পুলিশ আধিকারিক, জীবনতলা থানার আধিকারিক-সহ প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা। নিরাপত্তার স্বার্থে মোতায়েন করা হয় বিপুল সংখ্যক রাজ্য পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান।

এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি জমি দখল করে ব্যবসা চললেও আগে প্রশাসন কোনও পদক্ষেপ করেনি। অন্যদিকে প্রশাসনের বক্তব্য, জমি দখল ও বেআইনি নির্মাণের অভিযোগের ভিত্তিতে আইন মেনেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ক্যাফে ভাঙার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপও নেওয়া হবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।