আয়বহির্ভূত সম্পত্তি, তোলাবাজি এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে গ্রেপ্তার তৃণমূল নেতা দেবরাজ চক্রবর্তীকে ঘিরে তদন্তে নতুন মোড়। রাজ্য পুলিশের বিশেষ টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)-এর গ্রেপ্তারের পর এবার তাঁর বিরুদ্ধে অর্থপাচার বা বেআইনি আর্থিক লেনদেনের কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে নড়েচড়ে বসেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, দেবরাজের বিপুল সম্পত্তির উৎস, আর্থিক লেনদেন এবং সম্ভাব্য বেনামি সম্পত্তি সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়েছে। সমস্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে দিল্লিতে রিপোর্ট পাঠানো হবে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই অর্থপাচার প্রতিরোধ আইনে (PMLA) ইসিআইআর (ECIR) দায়ের করে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করা হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বুধবার সন্ধ্যায় পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড়তলি এলাকার একটি হোটেল থেকে দেবরাজ চক্রবর্তীকে গ্রেপ্তার করে বেঙ্গল এসটিএফ এবং বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের যৌথ বাহিনী। প্রযুক্তিগত নজরদারির মাধ্যমে তাঁর অবস্থান চিহ্নিত করা হয়। কলকাতা হাই কোর্টে আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হওয়ার পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে ছিলেন বলে তদন্তকারীদের দাবি। গ্রেপ্তারের পর সম্ভাব্য বিক্ষোভ এড়াতে বৃহস্পতিবার ভোরেই তাঁকে বাগুইআটি থানায় নিয়ে আসা হয়।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে থেকেই দেবরাজ চক্রবর্তী এবং রাজারহাট-গোপালপুরের প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সিকে ঘিরে একাধিক আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসে। অভিযোগ ছিল, নির্বাচনের আগে প্রায় ১০০ কোটি টাকার সম্পত্তি আত্মীয়স্বজন ও ঘনিষ্ঠদের নামে বেনামিভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে। পাশাপাশি, নির্বাচনী হলফনামায় সম্পত্তির প্রকৃত মূল্য গোপন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে। এছাড়া জমি দখল, সিন্ডিকেট রাজ এবং তোলাবাজির অভিযোগও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
এই অভিযোগগুলির জেরে অদিতি মুন্সি ও দেবরাজ চক্রবর্তী কলকাতা হাই কোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করেছিলেন। চার মাসের সন্তানের বিষয়টি বিবেচনা করে আদালত অদিতি মুন্সিকে আগাম জামিন দিলেও দেবরাজের আবেদন খারিজ করে দেয়। আদালত তাঁকে তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করার নির্দেশ দিয়েছিল। এরপরই পুরুলিয়ায় আত্মগোপন অবস্থায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

রাজ্য পুলিশের তদন্তের পাশাপাশি ইডির সক্রিয় হওয়ায় মামলার গুরুত্ব আরও বেড়েছে। তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, অভিযোগের সঙ্গে কোনও অর্থপাচার চক্র, বেনামি সম্পত্তি বা অবৈধ আর্থিক লেনদেনের যোগ রয়েছে কি না। দিল্লিতে রিপোর্ট পাঠানোর পর ইডি আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করলে দেবরাজ চক্রবর্তীর আইনি জটিলতা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।