আগামী সপ্তাহে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত হতে চলা জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে বৈঠক হতে পারে বলে কূটনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। বৈঠকটি হলে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির পর এই প্রথম দুই নেতা সামনাসামনি সাক্ষাৎ করবেন। শেষবার প্রধানমন্ত্রী মোদী আমেরিকা সফরে গিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন।
এই সম্ভাব্য বৈঠক এমন এক সময়ে হতে চলেছে, যখন ভারত-আমেরিকা সম্পর্ক একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুকে কেন্দ্র করে আলোচনায় রয়েছে। সম্প্রতি মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও ভারত সফর করেছেন এবং দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলা এবং তার জবাবে ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর এই প্রথম মোদী ও ট্রাম্পের সম্ভাব্য সাক্ষাৎ হতে চলেছে। পাকিস্তানের সঙ্গে মে মাসের সংঘাত এবং সেই পরিস্থিতি নিরসনে নিজের ভূমিকার দাবি করেছিলেন ট্রাম্প। তবে নয়াদিল্লি প্রকাশ্যেই সেই দাবি খারিজ করে দিয়েছিল।
এদিকে শুল্কনীতি এবং বাণিজ্য সংক্রান্ত বিভিন্ন মন্তব্যের জেরে ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের উপর কিছুটা চাপ তৈরি হলেও, একই সময়ে ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করছে ভারত। ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইতিমধ্যেই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির পথে এগিয়েছে। প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং বিনিয়োগ-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর দিকেও জোর দেওয়া হচ্ছে।
মঙ্গলবার ভারতের বিদেশ মন্ত্রক প্রধানমন্ত্রী মোদীর ইউরোপ সফরের সূচি ঘোষণা করেছে। ১৩ থেকে ১৪ জুন তিনি ফ্রান্সের নিস সফর করবেন। সেখানে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসবেন। পাশাপাশি ‘ভারত ইনোভেটস’ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন দুই নেতা, যেখানে ভারত ও ফ্রান্সের স্টার্টআপ এবং ভেঞ্চার ক্যাপিটাল সংস্থাগুলি অংশ নেবে।

এরপর ১৪ থেকে ১৬ জুন প্রধানমন্ত্রী মোদী সফর করবেন স্লোভাকিয়া। ১৯৯৩ সালে স্বাধীনতার পর এই প্রথম কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী দেশটি সফর করবেন। সেখানে তিনি প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকো এবং প্রেসিডেন্ট পিটার পেলিগ্রিনির সঙ্গে বৈঠক করবেন। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অটোমোবাইল এবং রেলওয়ে খাতে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ১৬ ও ১৭ জুন ফ্রান্সের এভিয়ানে জি-৭ আউটরিচ সম্মেলনে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে নতুন বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব, টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়ে আলোচনা হবে। একই সঙ্গে বিশ্বের একাধিক রাষ্ট্রনেতার সঙ্গে তাঁর দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।সফরের শেষ পর্যায়ে ১৮ জুন তিনি আবার প্যারিসে ফিরে ভিভা টেকে অংশ নেবেন। ইউরোপের বৃহত্তম প্রযুক্তি ও স্টার্টআপ সম্মেলনে বক্তব্য রাখার পাশাপাশি ভারতীয় প্রবাসীদের সঙ্গেও তাঁর সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে। জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে মোদী-ট্রাম্প বৈঠক হলে তা ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশে বিশেষ গুরুত্ব বহন করবে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক মহলের একাংশ।