‘এক মাসের মধ্যে হিন্দি শিখুন, নইলে এলাকা ছাড়তে হবে।’ দিল্লির একটি পার্কে এক আফ্রিকান ফুটবল কোচেকে ঠিক এই ভাষাতেই হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিজেপি কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে। আর এই অভিযোগ উঠেছে, বিজেপি কাউন্সিলর রেণু চৌধুরীর বিরুদ্ধে। গোটা ঘটনার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
শনিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, পূর্ব দিল্লির ময়ূর বিহারে বিজেপি কাউন্সিলর রেণু চৌধুরী একটি পার্কে ওই আফ্রিকান কোচকে হুমকি দিচ্ছেন। তাঁকে বলতে শোনা যায়, যদি তিনি হিন্দি না শেখেন, তাহলে তাঁর পরিণতি ভোগ করতে হবে। বহু বছর ধরেই এলাকার ফুটবল কোচ হিসেবে কাজ করেন তিনি। পাবলিক পার্কের ভেতরে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে কথা বলতে শোনা বিজেপি নেত্রী রেনু চৌধুরিকে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এতদিন ভারতে থাকার পরও কেন হিন্দি শেখেননি ওই বিদেশি নাগরিক? ভিডিওতে কাউন্সিলর রেণুকে বলতে শোনা যায়, ‘তুমি আমার কথাকে গুরুত্বই দাও না। শুনেও মানতে চাইছ না। কেন হিন্দি শেখোনি? আগামী এক মাসে যদি হিন্দি না শেখে, তাহলে ওর কাছ থেকে পার্ক কেড়ে নাও। এটা হাসির বিষয় নয়, আমি খুব সিরিয়াস হয়ে বলছি। শুনেও মানতে চাইছ না। এখানে উপার্জন করলে মুখে হিন্দিও বলতে শেখো। রেণু চৌধুরী দাবি করেন যে, তিনি আট মাস আগেই এই বিষয়টি তুলেছিলেন।
পার্কের সময়সূচি ও দায়িত্ব নিয়ে সতর্কবার্তায় ভিডিওর আরেক অংশে রেণুচৌধুরীকে দেখা যায়, ফ্রেমের বাইরে থাকা কাউকে আঙুল দেখিয়ে পার্কের নিয়ম ও নিরাপত্তা নিয়ে সতর্ক করতে। তিনি বলেন, ‘আমি তোমাকে বলে দিচ্ছি, রাত ৮টার মধ্যে পার্ক বন্ধ হওয়া উচিত। কোনও অপরাধমূলক কার্যকলাপ হলে তার দায়িত্ব তোমারই হবে।’ এই ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকেই কাউন্সিলরের আচরণকে ‘বুলিং’ এবং একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির জন্য এই ধরনের মন্তব্য অনুপযুক্ত বলে কমেন্ট করেন। এক ব্যবহারকারী লেখেন, জনপ্রিয়তা ও ক্ষমতা দেখানোর জন্যই এই ধরনের আচরণ করা হয়েছে। এক নেটিজেন ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘বিদেশিদের সঙ্গে কী এমন খারাপ আচরণ করা উচিত? ভারতীয়েরা কাজের জন্য বাইরে গেলে কী ইংরেজি বাদ দিয়ে সেখানকার ভাষা শেখার জন্য জোরাজুরি করা হয়?’ এক্স বার্তায় আম আদমি পার্টির (আপ) নেতা সোমনাথ ভারতী বলেন, ‘বিজেপির একজন নেতা আফ্রিকান বংশোদ্ভূত একজন ব্যক্তিকে কেবল হিন্দি না জানার কারণে অপমান করছেন। এই ধরণের ব্যাবহার কীভাবে বিদেশীদের-বিদেশে বসবাসকারী লক্ষ লক্ষ ভারতীয় এবং সেই দেশগুলির স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করার সুযোগ দেবে তা নিয়ে কোনও ভাবনা নেই।’

তবে সমালোচনার মুখে রেণু চৌধুরী ঘটনার ব্যাখ্যা করেন। এমনকী, নিজের অবস্থান স্পষ্ট করার চেষ্টা করেন তিনি। তিনি জানান, ওই আফ্রিকান নাগরিক প্রায় ১৫ বছর ধরে ওই এলাকায় বসবাস করছেন। পেশায় তিনি একজন বেসরকারি ফুটবল কোচ হিসেবে কাজ করেন। তাঁর দাবি, যেদিন ভিডিওটি করা হয়, সেদিন মাঠে প্রায় ২০ জন আফ্রিকান নাগরিক উপস্থিত ছিলেন। তাঁর বক্তব্য, দিল্লি পুরনিগমের অধিকাংশ কর্মী ইংরেজি বোঝেন না। দীর্ঘদিন এলাকায় থাকার পরও বিদেশি কোচরা ন্যূনতম হিন্দি না বোঝায় যোগাযোগে সমস্যা ও ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হচ্ছে। কাউন্সিলরের দাবি, কাউকে হুমকি দেওয়ার কোনও উদ্দেশ্য তাঁর ছিল না। যোগাযোগ সহজ করার জন্যই তিনি হিন্দি শেখার পরামর্শ দিয়েছিলেন। উল্লেখ্য, রেণু চৌধুরী পূর্ব দিল্লির পাটপড়গঞ্জ এলাকার ওয়ার্ড নম্বর ১৯৭ থেকে নির্বাচিত হয়ে দিল্লি পুরনিগমের কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।