ইনকেলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে অগ্নিগর্ভ গোটা বাংলাদেশ। এই পরিস্থিতিতে তাঁর মৃত্যুর নেপথ্যে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী মহম্মদ ইউনুস সরকারেরই হাত রয়েছে বলে বিস্ফোরক অভিযোগ করে সোচ্চার হলেন হাদির দাদা শরিফ ওমর বিন হাদি। তাঁর ভাইয়ের মৃত্যুর পরে ৬ দিন কেটে গেলেও এখনও সরকার কিছুই করতে পারেনি বলে অভিযোগও করেন তিনি।
মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানী ঢাকার শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে আয়োজিত ‘শহীদি শপথে’ উপস্থিত হয়ে ইউনুস সরকারের বিরুদ্ধে রীতিমতো ক্ষোভ উগরে দিতে দেখা গিয়েছে হাদির দাদা শরিফ ওমর বিন হাদিকে। অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা ওসমান হাদিকে হত্যা করিয়েছেন আবার আপনারাই এটাকে ইস্যু করে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছেন। আমরা তা কখনও হতে দেব না।’ সেই সঙ্গে তাঁর হুঁশিয়ারি, ‘আপনারা যদি মনে করেন দুই মাস পর (নির্বাচনের পর) রাষ্ট্রক্ষমতা ছেড়ে বিদেশে চলে যাবেন, তবে মনে রাখবেন এ দেশের জনতা আপনাদের কাঠগড়ায় দাঁড় করাবেই।’ এরপরেই ওমর বিন হাদি বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারকে অনুরোধ করব, দ্রুত খুনিদের আমাদের সামনে উপস্থাপন করুন। নির্বাচনের পরিবেশ যেন বিঘ্নিত না হয়, দ্রুত খুনিদের বিচার করুন।’
প্রয়াত ভাইয়ের কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তাঁর দাদা। ওমর বিন হাদি বলেন, ‘ওসমান হাদি বলেছিল ফেব্রুয়ারিতে এ দেশে নির্বাচন হতে হবে। নির্বাচন করার জন্য সে মাঠেও নেমেছিল। তাঁকে হত্যা করে নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা হচ্ছে।’ এখানেই না থেকে তিনি আরও বলেন, ‘ওসমান হাদি বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষকে পথ দেখিয়েছে কীভাবে রাজপথে আন্দোলন করতে হয়, কীভাবে স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব টিকিয়ে রাখতে হয়। এজেন্সির রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে জনসাধারণের নেতা হয়ে ওঠা সে-ই শিখিয়েছে। সে প্রমাণ করে গেছে, জীবিত ওসমান হাদির চেয়ে মৃত ওসমান হাদি আরও বেশি শক্তিশালী হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসছে।’ ওমর বিন হাদি বলেন, ‘যে এজেন্সির হয়ে, যে রাষ্ট্রের হয়ে আপনারা ওসমান হাদিকে হত্যা করেছেন, মনে রাখবেন, হাদি কোনও রাষ্ট্র, এজেন্সি বা কোনও তাঁবেদারের কাছে মাথানত করেনি। সে মাথানত করলে অন্য নেতাদের মতো বিক্রি হয়ে সুখে জীবনযাপন করতে পারতো।’ শেষে ইউনুস সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে ওমর বিন হাদি বলেন, ‘বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের অপেক্ষায়। আপনারা (অন্তর্বর্তী সরকার) রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকাকালীন হাদিকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার দায় আপনারা এড়াতে পারবেন না। আপনাদেরও বিচার হবে। আজ হোক দশ বছর পরে হোক, বিচারের কাঠগড়ায় আপনাদের দাঁড়াতেই হবে।’

ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুসারে, ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লা আল জাবের বলেন, ‘মৃত্যুর আগে তিনি (মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি) বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের কথা বলে গেছেন। আমাদের লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে হবে। আমরা বারবার রক্ত দেব। বাংলার জমিনে ইনসাফ কায়েমের জন্য যদি রক্ত দিতে হয় দেব, আর রক্ত যদি নেওয়া লাগে নেব। রক্তের বদলা রক্ত হয়, রক্তের বদলা সুশীলতা হয় না। আমরা শহিদ ওসমান হাদির রক্তের সঙ্গে বেইমানি করব না।’ আগামী ৩০ দিনের মধ্যে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে হাদি হত্যার তদন্ত করে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান জাবের। তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে খবর এসেছে- ২৫ তারিখ বিএনপি নেতা তারেক রহমান দেশে ফিরবেন। সেদিন সবাই ব্যস্ত থাকবেন। সে সময় ওসমান হাদির খুনিদের বিদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। হাদির খুনিদের পেছনে রাঘববোয়াল আছে। এজন্য খুনিদের জনসম্মুখে আনা হচ্ছে না।’ একই সঙ্গে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব জানান, আগামী ২৫ তারিখের পর বাংলাদেশে লাগাতার কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। সারা দেশে এই কর্মসূচি পালন করা হবে।