বিগত কয়েকদিনে বাংলাদেশে ভারত বিরোধিতার সুর সপ্তমে চড়েছে। উঠেছে ভারতের সঙ্গে সব সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করার ডাক। ভারতকে বয়কট করার ডাকও দিয়েছেন সেই দেশের বিপ্লবী নেতারা। তবে বাস্তব চিত্রটা ভিন্ন। কয়েকদিন আগেই দেশের ঘরোয়া বাজারে পেঁয়াজের অগ্নিমূল্যে জল ঢালতে ভারত থেকে পেঁয়াজ কিনেছিল বাংলাদেশ। আর এবার ভারত থেকে চাল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মহম্মদ ইউনুসের সরকার। ২৩ ডিসেম্বর এক বৈঠকের পরে এমনটাই জানান বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ।
সালেহউদ্দিন বলেন, ‘ভারত থেকে চাল না এনে যদি ভিয়েতনাম থেকে আনতে যাই, কেজিতে আরও ১০ টাকা করে বেশি লাগবে। ভারত থেকে প্রতিযোগিতামূলক দামে চাল পেলে অন্য জায়গা থেকে আনব না। ভারত থেকে এর আগেও চাল আনা হয়েছে। কিছুদিন আগে ভারত থেকে পেঁয়াজের আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্ত নিতে একটু দেরি হয়েছে। আগে সিদ্ধান্ত নিলে দেশে পেঁয়াজের দাম আরও কমত।’
ইউনুস সরকারের অর্থ উপদেষ্টা জানান, ভারত থেকে ৫০ হাজার মেট্রিক টন চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। এদিকে পাকিস্তানের থেকেও চাল কিনবে বাংলাদেশ। তবে পাকিস্তানি চালের দাম ভারতের থেকে বেশি। জানানো হয়েছে, বাংলাদেশি মুদ্রায় ৪৫৯ কোটি ৫ লাখ ৮৩ হাজার ১৬৫ টাকার চাল আমদানি করবে ইউনুস সরকার। এর মধ্যে ভারত থেকে কেনা চালের দাম প্রতি কেজিতে ৪৩ টাকা ৫১ পয়সা। আর পাকিস্তানি চালের দর ৪৮ টাকা ৩০ পয়সা প্রতি কেজি। বাংলাদেশের সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে চাল কেনার এ অনুমোদন দেওয়া হয়। জানা গিয়েছে, ভারত থেকে পাত্তাভি অ্যাগ্রো ফুডস প্রাইভেট লিমিটেডের থেকে ৭৭ লাখ ৮৮ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার মূল্যে ৫০ টন চাল কিনবে বাংলাদেশ।
এর আগে সম্প্রতি ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত ভারত থেকে দেড় হাজার টন পেঁয়াজ আমদানি করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। এর আগে বাংলাদেশের বাজারগুলিতে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১৫০ টাকা ছুঁয়ে গিয়েছিল। এই আবহে দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণ করতে ভারতের থেকে পেঁয়াজ আমদানি করতে বাধ্য হয়েছে ইউনুস সরকার। এই আবহে ৫০ জন ভাতরীয় রফতানিকারকের থেকে ৩০ টন করে পেঁয়াজ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ঢাকা। এর আগে ২০২৫ সালের অগস্ট মাসে শেষবার ভারত থেকে পেঁয়াজ কিনেছিল বাংলাদেশ। এরপর ভারতের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে পাকিস্তান, চিন, তুরস্কের মতো দেশ থেকে পেঁয়াজ কিনছিল তারা। তবে তাতে দেশের ঘরোয়া বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়েই চলেছিল। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচনের আগে বাজারের অগ্নিমূল্য নিয়ন্ত্রণে ফের ভারতের ওপরই ভরসা দেখাতে হচ্ছে বাংলাদেশকে।
