পুজোর মুখে মাত্র কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে জলমগ্ন হয়ে পড়েছিল কলকাতা ও আশপাশের এলাকা। সেই জলবন্দি দুর্যোগেই মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারান মোট ১২ জন মানুষ। এরমধ্যে কলকাতায় ১০ জন এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার দুটি এলাকা মিলিয়ে আরও ২ জন। বিদ্যুৎবাহী তার ভেসে থাকা জলেই ঘটে একের পর এক দুর্ঘটনা। শহরের যাদবপুর, পার্ক সার্কাস, একবালপুর, ভবানীপুর, তারাতলা থেকে মোমিনপুর ও নেতাজিনগর প্রায় সর্বত্রই ছিল আতঙ্ক ও অব্যবস্থার চিহ্ন। সেই সমস্ত পরিবারদের জন্য বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
প্রথম থেকেই এই মৃত্যুর জন্য সরাসরি সিইএসসি-কে দায়ী করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানিয়েছিলেন, মৃতদের পরিবারকে দেওয়া হবে সরকারি ক্ষতিপূরণ এবং সিইএসসি যদি দায়িত্ব না নেয়, তবে রাজ্য সরকারই পরিবারের একজনকে চাকরি দেবে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী আগেই ঘোষণা করেছিলেন ২ লক্ষ টাকার আর্থিক সাহায্য এবং প্রয়োজনে স্পেশাল হোমগার্ড পদে নিয়োগের আশ্বাস। বুধবার দার্জিলিংয়ে প্রশাসনিক বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রী আরও স্পষ্ট করে জানান, ১৭ অক্টোবর কলকাতার শেকসপিয়র সরণির একটি মণ্ডপে ডেকে মৃতদের পরিবারকে তুলে দেওয়া হবে নিয়োগপত্র ও আর্থিক সহায়তা। তাঁর কথায়, কলকাতায় একটা দুর্ঘটনা ঘটেছিল। জমা জলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মোট ১২ জনের মৃত্যু। তাঁদের পরিবারকে ১৭ তারিখ ডাকা হয়েছে। একজন করে সদস্যকে চাকরি ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
এরফলে কার্যত পরিষ্কার হয়ে গেল যে, সিইএসসি কোনও দায় নিল না। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর মতো গুরুতর ঘটনায় বিদ্যুৎ সংস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও, এবার সেই দায় কাঁধে তুলে নিচ্ছে রাজ্য সরকারই। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, এই ঘোষণা শুধু ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সান্ত্বনা নয়, প্রশাসনিক ব্যর্থতা ধামাচাপা দেওয়ার একটি প্রচেষ্টা।

এই ঘটনার পর থেকে শহরে জলনিকাশি ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা এবং জরুরি পরিষেবা নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে কলকাতার বুকে এমন বিপর্যয়, আর তার পরেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একের পর এক মৃত্যু এতে মানুষের আস্থা মারাত্মকভাবে নড়েছে। তবে মুখ্যমন্ত্রীর এই পদক্ষেপ কিছুটা হলেও আশার সঞ্চার করেছে পরিবারগুলির মধ্যে। যারা হঠাৎ প্রিয়জন হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন, তারা অন্তত ন্যূনতম নিরাপত্তা ও পুনর্বাসনের পথ দেখতে পাচ্ছেন।