ভারতের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধ করার সামর্থ্য বা সাহস নেই পাকিস্তানের। এই আবহে আবারও পহেলগাঁওয়ের মতো সন্ত্রাসী ষড়যন্ত্র করতে পারে প্রতিবেশী দেশ। এমনই সতর্কবাণী শোনা গেল পশ্চিমাঞ্চলীয় সেনা কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল মনোজ কুমার কাটিয়ার গলায়। জম্মুতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, অপারেশন সিঁদুরের সময় ভারত পাকিস্তানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছিল। তিনি বলেন, ‘আমরা পাক সেনার পোস্ট ও বিমান ঘাঁটি ধ্বংস করেছি। তবে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে, কারণ তারা আবার কিছু করার চেষ্টা করতে পারে।’
জেনারেল কাটিয়ার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, পাকিস্তান যদি ফের কোনও পদক্ষেপ নেয়, তাহলে ভারতের এবারের পাল্টা হবে আরও মারাত্মক। তিনি বলেন, ‘তারা যদি ফের কিছু করে, তাহলে আমাদের প্রতিক্রিয়া হবে আগের চেয়েও অনেক বেশি মারাত্মক। এতে কোনও সন্দেহ নেই। আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত এবং আমি আত্মবিশ্বাসী যে পরবর্তী পদক্ষেপটি আরও নির্ণায়ক হবে।’
তিনি বলেন, পাকিস্তান তাদের বিদ্বেষমূলক নীতি থেকে বিরত থাকবে না কারণ ভারতের বিরুদ্ধে সরাসরি লড়াই করার ক্ষমতা বা সাহস তাদের নেই। এই আবহে ভারতীয় সেনাবাহিনী পুরোপুরি প্রস্তুত এবং আমাদের জনগণের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। এই কারণেই অপারেশন সিঁদুরের সময় আমরা পাকিস্তানকে পরাজিত করতে পেরেছিলাম।

উল্লেখ্য, গত ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পহেলগাঁও সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছিলেন। এরপরই ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এরপর ৭ মে পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে জঙ্গি পরিকাঠামো লক্ষ্য করে ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরু করে ভারত। ৯টি জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়ে শতাধিক সন্ত্রাসবাদীকে খতম করে ভারত। এর পরের দিনগুলিতে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছিল। পাকিস্তান ভারতীয় বিমানঘাঁটিগুলিতে আঘাত হানার চেষ্টা করেছিল। পালটা জবাবে পাকিস্তানের নাভিশ্বাস তুলে দিয়েছিল ভারত। পাকিস্তানের ১১টি সামরিক ঘাঁটি অকেজো করে দিয়েছিল ভারত। রাওয়ালপিন্ডি, করাচি, লহোরের মতো শহরে আছড়ে পড়েছিল ভারতীয় মিসাইল। এই আবহে পাকিস্তান সংঘর্ষবিরতির জন্য কাতর আর্তি জানিয়েছিল ভারতের কাছে। সেই আর্তি মেনে অপারেশন সিঁদুর স্থগিত করতে সহমত হয়েছিল ভারত।