দীপাবলি উপলক্ষে দিল্লি-সহ এনসিআর এলাকায় গ্রিন ক্র্যাকার বা সবুজ আতসবাজি ব্যবহারের অস্থায়ী অনুমতি দিল সুপ্রিম কোর্ট। বুধবার প্রধান বিচারপতি বিআর গাভাইয়ের নেতৃত্বে গঠিত বেঞ্চ জানিয়েছে, ১৮ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে শুধুমাত্র সবুজ আতসবাজি পোড়ানো যাবে। দীপাবলির এক সপ্তাহ আগে শীর্ষ আদালতের নির্দেশে স্বস্তি পেলেন রাজধানীর বাসিন্দারা।দীপাবলিতে দিল্লি সংলগ্ন ন্যাশনাল ক্যাপিটাল রিজিয়ন বা এনসিআর এলাকায় পরিবেশবান্ধব বাজি বা সবুজ আতসবাজি পোড়ানোর অনুমতি চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে আর্জি জানিয়েছিল কেন্দ্র এবং দিল্লি সরকার। বুধবার সব দিক মাথায় রেখে শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি বিআর গাভাই এবং বিচারপতি কে বিনোদ চন্দ্রন সাময়িক ভিত্তিতে এ ব্যাপারে অনুমতি দেন। তবে একই সঙ্গে বাজি পোড়ানোর সময়সীমার ক্ষেত্রে শর্ত চাপিয়েছে শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, দীপাবলির দিনে সকাল ৬টা থেকে ৭টা এবং সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টার মধ্যে আতসবাজি পোড়ানো যাবে। আদালত বলেছে, ‘প্রতি বছর দীপাবলির সময় দিল্লির বায়ু দূষণ মারাত্মক আকার ধারণ করে। তবে মানুষকে উৎসব উদযাপনের সুযোগও দিতে হবে। তাই সীমিত পরিসরে সবুজ আতসবাজি অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে।’ প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘বাজারে অনেক অবৈধ আতসবাজি চলে আসে, যা পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করে। সেই তুলনায় সবুজ আতসবাজি তুলনামূলক কম ক্ষতিকর। তবে নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি অপরিহার্য।’ বেঞ্চ আরও নির্দেশ দেয়, প্রতিটি সবুজ আতসবাজির গায়ে কিউআর কোড থাকতে হবে, যা অনলাইনে যাচাই করা যাবে। যদি ভুয়ো বা অননুমোদিত আতসবাজি পাওয়া যায়, তবে সংশ্লিষ্ট প্রস্তুতকারকের লাইসেন্স বাতিল করা হবে।’

শীর্ষ আদালতের তরফে পুলিশকে পেট্রোলিং টিম তৈরি করতে বলা হয়েছে, যারা বাজি উৎপাদক ও বিক্রেতাদের উপরে নিয়মিত নজরদারি করবে। দিল্লি পুলিশ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডকে বিশেষ টহল দল গঠন করে ১৮ অক্টোবর থেকে শহরের বায়ু মান পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালত জানিয়েছে, উৎসব চলাকালীন ও তার পরে দূষণের মাত্রা ও তার প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে হবে কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ড (সিপিসিবি) এবং রাজ্য দূষণ বোর্ডকে (এসপিসিবি)। উল্লেখ্য, বর্ষা বিদায় নিতেই দিল্লির বাতাসের গুণগত মান উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। ইতিমধ্যেই দিল্লির বাতাসের গুণগত মান বা একিউআই ‘খারাপ’ পর্যায়ে রয়েছে। ২০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে দীপাবলির আগেই। প্রতিবছর দীপাবলির আগে ও পরে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছে যায়।