পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর-এর ফর্ম ছাপার কাজ শুরু হয়েছিল দুর্গাপুজোর আগেই। ২০০২ সালের পর এই প্রথম পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর হচ্ছে। গতবারের সমীক্ষা অনুযায়ী প্রতিটি রাজ্যে তালিকা প্রকাশের নির্দেশও দিয়েছে কমিশন। পশ্চিমবঙ্গ-সহ কয়েকটি রাজ্যে সেই কাজ ইতিমধ্যেই সম্পূর্ণ হয়েছে। আর পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে ২০০২ সালের তুলনায় ২০২৫ সালের ভোটার তালিকার সংখ্যার ফারাক অনেকটা বেশি বলে দাবি করা হচ্ছে রিপোর্টে।জানা গিয়েছে, ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে ২০২৫ সালের ভোটার তালিকায় ৪৫ শতাংশ ফারাক আছে উত্তর ২৪ পরগনায়। এদিকে দক্ষিণ ২৪ পরগনায় মিলেছে ৫৫ শতাংশের ভোটারের নাম। এদিকে আলিপুরদুয়ারে ৫৩.৭৩ শতাংশ ভোটার, মালদায় ৫৫.৪৫ শতাংশ, কলকাতা উত্তরে ৫৫.৩৫ শতাংশ মিল রয়েছে। এই আবহে অভিযোগ, রাজ্য প্রশাসন বেআইনিভাবে রোহিঙ্গা, বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের ডোমিসাইল সার্টিফিকেট দিয়ে ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্ত করছে। তাই ২০০২ সালের তুলনায় ২০২৫ সালের তালিকায় এত ফারাক বা কম মিল।
এই এসআইআর প্রক্রিয়ায় যাঁদের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় রয়েছে, তাঁদের নাম এবারও এমনিতেই থাকবে। এদিকে বা যাঁদের বাবা-মায়ের নাম ২০০২ সালের তালিকায় আছে কিন্তু সেই সময় প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া সত্ত্বেও কারও নাম তালিকায় নেই, সেই ক্ষেত্রে ১২টি নির্ধারিত নথির (আধার কার্ড-সহ) যেকোনও একটি জমা দিতে হবে। যাঁদের নাম বা তাঁদের বাবা-মায়ের নাম ২০০২ সালের তালিকাতেই নেই, তাঁদের ক্ষেত্রেও এই ১২টি নথি থেকে নাগরিকত্বের প্রমাণ জমা দিতে বলা হবে। সঙ্গে বাবা-মায়ের নথিও দিতে হবে তাঁদের।

এর আগে বিহারের এসআইআর-এর সময় কমিশন জানিয়েছিল, ২০০৩ সালের পরে বিহারের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত সকলকে তাদের জন্ম তারিখ/জন্মস্থান প্রমাণ করে নথি জমা দিতে হবে। ১৯৮৭ সালের ১ জুলাইয়ের পরে জন্মগ্রহণকারী ভোটারদেরও তাদের পিতামাতার নথি সরবরাহ করতে বলা হয়েছিল। এটা নাগরিকত্ব আইন, ১৯৬৫-র বিধানগুলির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বিহারের এসআইআর-এর সময় সুপ্রিম কোর্টে এই নিয়ে মামলা হয়েছিল। এসআইআর-এ প্রথামিক ভাবে ১১টি নথি গ্রহণের কথা বলা হয়েছিল। এই ১১টি নথির মধ্যে আধার বা ভোটার আইডি কার্ড ছিল না। পরে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে আধারকে ১২তম নথি হিসেবে গ্রহণ করতে শুরু করেছে কমিশন। তবে এই ক্ষেত্রে আধার শুধুমাত্র পরিচয়পত্র। প্রসঙ্গত, এসআইআর প্রক্রিয়ায় আধারকে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশে সুপ্রিম কোর্টও জানিয়ে দিয়েছে, আধার কোনও নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়।