ওসমান হাদির মৃত্যুর খবরের রাত থেকে হিংসার আগুনে জ্বলেছে বাংলাদেশ। সেই রাতেই দীপু দাস নামে ময়মনসিংহের এক যুবককে ব্যাপক মারধর করে মৃত অবস্থায় রাস্তার ধারে অগ্নিদগ্ধ করে খুন করা হয়। ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়ে যায়। সেই দীপু দাসের স্বামী হারা স্ত্রী মেঘনা রানি এদিন ঘটনা প্রসঙ্গে মুখ খুলেছে। এদিকে, চট্টগ্রামের রাজাউনে ফের একবার হিন্দু বাড়িতে অগ্নিসংযোগের খবর উঠে আসছে।
বাংলাদেশের প্রথম সারি সংবাদমাধ্যম ‘প্রথম আলো’র খবর অনুসারে বাড়িতে শেষবার ১৫ ডিসেম্বর রাত ২ টোয় এসেছিলেন দীপু। পরে ১৭ ডিসেম্বর ফিরে যান কর্মস্থলে। সেটাই যে দীপুর সঙ্গে তাঁর বাড়ির সদস্যদের শেষ দেখা হবে, তা ভাবতে পারেননি মেঘনারা। এরপর ১৮ ডিসেম্বর দীপুর পরিবার খবর পায় ছেলের মৃত্যুর। ঘটনার দিন বিকেল ৫ টা নাগাদ ফোনে স্ত্রী মেঘনার সঙ্গে শেষ কথা হয় দীপুর। দীপু আর মেঘনার ঘর আলো করে থাকা সন্তানের খবর সেদিন ফোনে নেন দীপু। কী কথা হয়েছিল সেদিন? মেঘনা বলছেন,’ বাচ্চার খবর নিয়েছিল, আমরা কে কী করছি, সব খবর নেয়।’ এদিকে, বেশ কিছু মিডিয়া রিপোর্টে, দীপু হত্যা ঘিরে কারখানার কোনও ঝামেলা ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। দীপুর স্ত্রী মেঘনা বলছেন,’তাঁর সঙ্গে কারখানায় কোনও ঝামেলা আছে, এমন কথা কখনও বলেনি, পদোন্নতির কোনও কথাও শুনিনি।’ শোকক্লান্ত মেঘনা বলছেন,’ আমার স্বামী যে হত্যার শিকার হল কোনও অপরাধ ছাড়াই!’ মেঘনা আর দীপুর সংসারজীবনের বয়স মাত্র ৩ বছর। রয়েছে তাঁদের দেড়বছরের কন্যা সন্তান। মেঘনা বলছেন,’আমার স্বামীকে নিয়ে সুন্দর জীবনের স্বপ্ন দেখছিলাম।’ মেঘনার প্রশ্ন,’আমাদের কী হবে এখন?’
চট্টগ্রামে তালাবন্ধ করে পুড়ল পর পর বাড়ি
চট্টগ্রামের রাজাউন এলাকায় পর পর দিন উঠে আসছে বহু বাড়িতে অগ্নিসংযোগের খবর। আজ সুলতানপুর গ্রামের সুখ শীল ও অনিল শীলের দুটি বাড়ির সাতটি ঘর অগ্নিকাণ্ডের জেরে পুড়ে গিয়েছে বলে খবর। জানা যায় বাড়ির বাইরে তালাবন্ধ করে ভোর পৌনে চারটের দিকে বাড়িতে আগুন লাগানো হয়। টিন আর বাঁশের বেড়া কেটে সদস্যরা প্রাণে রক্ষা পান। এই ঘটনা প্রথম নয়। কিছুদিন আগেই চট্টগ্রামে রাজাউন এলাকায় অমল তালুকদার ও রুবেল দাসের বাড়িতেও একই ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনায় অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। এখানেও শেষ নয়। এরও আগে, বৃহস্পতিবার ,১৮ ডিসেম্বর রাউজান সদর ইউনিয়নের কেউটিয়া বড়ুয়াপাড়া গ্রামের সাধন বড়ুয়ার বসতঘর ও গোয়ালেও একইভাবে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উল্লেখ্য, এই ১৮ ডিসেম্বরেই ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর আসে বাংলাদেশে।
