সাড়ে তিন মাস আগে দায়িত্ব নিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির নতুন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। প্রথম কয়েক সপ্তাহ ছিল আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা আর শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময়। কিন্তু এখন দলের ভিতরে-বাইরে জল্পনার কেন্দ্র কারা থাকবেন রাজ্য কমিটিতে। কাদের বাদ পড়ার সম্ভাবনা এবং পুরনো নেতৃত্বের গুরুত্ব কি বাড়তে চলেছে? এই নিয়ে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।
দশ বছর পর বঙ্গ বিজেপি আবার এমন এক সভাপতিকে পেল, যিনি ‘আদি বিজেপি’ নেতা। শমীক ভট্টাচার্য রাজ্য সভাপতি হওয়ার পরেই দলে পুরনোদের ভূমিকা ও সম্মান পুনর্বিবেচনার বিষয়টি জোরদার হয়েছে। বিজেপির অন্দরে আগের দুই সভাপতির কমিটির তালিকা দিলীপ ঘোষ ও সুকান্ত মজুমদারের সময়কার নামগুলো নতুন করে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। সূত্রের খবর, নতুন কমিটিতে ২২০ থেকে ২২৫ জন সদস্য থাকবেন এবং তাঁদের প্রায় ৬৫ শতাংশই থাকবেন বিদায়ী কমিটি থেকে। বাকিদের বাছাই হবে ব্যাপক রাজনৈতিক সমীকরণ ও কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে। সেখানে পুরনো সংগঠকেরা ফের গুরুত্ব পেতে পারেন।
সবচেয়ে আলোচিত নামগুলোর মধ্যে রয়েছেন এক প্রাক্তন সহ-সভাপতি, যাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। তাঁর শাস্তি প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া নাকি ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। পাশাপাশি আলোচনায় রয়েছেন রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রতাপ বন্দ্যোপাধ্যায়, সায়ন্তন বসু, সঞ্জয় সিংহ ও অমিতাভ রায়ের মতো পুরনো এবং দীর্ঘদিনের সংগঠক নেতারা। অনেকেই বলছেন গত কয়েক বছরে প্রাপ্য মর্যাদা পাননি তাঁরা।
রাহুল সিংহের আমলের কমিটি, অর্থাৎ প্রায় দশ বছর আগের কাঠামোকে এবার রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। শমীক নেতৃত্ব সেই তালিকা থেকেই কর্মক্ষম, অভিজ্ঞ এবং আদর্শভিত্তিক নেতাদের পুনর্নিযুক্ত করার পথে হাঁটছেন। তবে অতীতের আরও পুরনো সময়ে ফেরার ইচ্ছে নেই সভাপতি শমীকের, কারণ বয়স ও সক্রিয়তা বিবেচনা করে অনেকেরই আর ময়দানে নেমে কাজ করা সম্ভব নয়।

আগামী দিনে বিধানসভা ভোটের প্রস্তুতি মাথায় রেখে সাধারণ সম্পাদক স্তরেও পরিবর্তন আসতে পারে। দলের পাঁচ সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে দুই বা তিনজন তাঁদের পদে বহাল থাকবেন, তবে যাঁদের ভোটে লড়াইয়ে নামার সম্ভাবনা রয়েছে, তাঁদের সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে খানিক ‘বিরতি’ দেওয়া হতে পারে বলে বিজেপি সূত্রের খবর। পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পছন্দ, বিশেষ করে পর্যবেক্ষক সুনীল বনসল ও সংগঠন সম্পাদক বিএল সন্তোষের সুপারিশ অগ্রাহ্য করার উপায় নেই। সবশেষে, আরএসএসের কেশব ভবনের অনুমোদন ছাড়া কোনও তালিকাই চূড়ান্ত হয় না। আর শমীক ভট্টাচার্যের ক্ষেত্রে সেই অনুমোদন পাওয়াটাই অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।