কার্নিভালে যাওয়া প্রসেনজিৎকে একহাত নিল নেটপাড়া

Spread the love

ভাসছে উত্তরবঙ্গ। প্রবল ক্ষয়ক্ষতি, বহু মানুষ শুধু নয় প্রাণ হারিয়েছে বন্যপ্রাণ! আটকে হাজার হাজার পর্যটক। নিখোঁজ মানুষ। যখন রবিবার উত্তরবঙ্গের এই ভয়াবহ দশা, তখন দক্ষিনবঙ্গ ছিল কার্নিভাল। দুর্গা ঠাকুর ভাসানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে পা মিলিয়েছিলেন এই রাজ্যের তারকারা। যাতে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, শ্রাবন্তী থেকে শুরু করে অঙ্কুশ হাজরা, নুসরত জাহানরা পর্যন্ত ছিলেন। সাধারণ মানুষের অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, কেন কার্নিভাল বাতিল করা হল না। কেন রাজ্যের একাংশের মানুষ যখন প্রাণ হারাচ্ছে, বাড়িঘর হারিয়ে সর্বহারা, তখন খোদ মুখ্যমন্ত্রী ‘নাচ-গান-শোভাযাত্রায় ব্যস্ত ছিলেন?’

আর মানুষের সেই ক্ষোভই গিয়ে পড়ল অভিনেতা, টলিউডের ‘ইন্ডাস্ট্রি’ হিসেবে পরিচিত প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের উপর। যিনি রবিবার কার্নিভালে হাজির ছিলেন। সোমবার বেশ রাতের দিকে উত্তরবঙ্গের ভয়াবহ অবস্থা নিয়ে একটি পোস্ট শেয়ার করে নিয়েছেন সোশ্যাল মিডিয়াতে। যেখানে লেখা, ‘কুচবিহার, দার্জিলিং , জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ার (প্রথমে আলিপুরদুয়ারের নাম উল্লেখ করা ছিল না। জনগণের রোষে পড়ে তা এডিট করে ঢোকানো হয়) এই মুহূর্তে সারা দেশ এবং সমগ্র দেশ এর নিঃস্বার্থ সহযোগিতা পাক এই আশা রাখি। মানুষ ও প্রকৃতি সামঞ্জস্য হারালে সচেতনতা এবং সদুদ্যোগ একমাত্র উপায় ঘুরে দাঁড়ানোর।’

তবে কমেন্ট সেকশনে চোখ রাখতে দেখা গেল, প্রসেনজিতের এই পোস্টে সাধারণ মানুষের রাগ একটু তো কমেইনি, বরং আরও যেন বেড়েছে। কমেন্টে সিংহভাগ মানুষই তাঁকে একহাত নিয়েছেন। ট্রোলের বন্যা। একজন মন্তব্য করেন, ‘জনগণের প্রবল বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখে মেক-আপ দিতে বিলম্বিত পোস্ট্!’ আরেকজন আবার লেখেন, ‘আরে দাদা আজ নিউজ দেখে, সোশ্যাল মিডিয়াতে ট্রোল হওয়ার পরে এসেছে… নাকি দশমীর হ্যাং ওভার কাটেনি এখনো’। আরকেটি কমেন্টে লেখা হয়, ‘পেমেন্ট এলো বদ্দার, তারপর পোস্ট।’ আরেকটি কমেন্টে লেখা হয়, ‘ও বাবা! দাদার এখনও বাংলাটা মনে আছে দেখছি। আমি তো ভাবলাম ভুলে গেছেন মুম্বই গিয়ে’!

প্রসঙ্গত, মাসখানেক আগেও ট্রোলের নিশানা হয়েছিলেন প্রসেনজিৎ। মুম্বইয়ে এক প্রেস মিট চলাকালীন তাঁকে বাংলার এক সাংবাদিক বাংলায় প্রশ্ন করলে, প্রসেনজিৎ বলে বসেন, ‘বাংলা বলার কী দরকার পড়ল’! তারপর রে রে করে তেড়ে আসেন মানুষ এভাবেই। এমনকী, নিঃশর্তভাবে ক্ষমাও চেয়েছিলেন পরবর্তীতে তিনি ট্রোলের মুখে পড়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *