মোহাম্মদ দোদি আসাদ। পশ্চিম তীরের রামাল্লাহ শহরের পাঁচ বছর বয়সী শিশু। যে তীব্র রক্ত ও অস্থি মজ্জার ক্যান্সারের সাথে লড়াই করছে।
আসাদের পরিবার বারবার তাকে চিকিৎসার জন্য ইসরাইলে স্থানান্তরের অনুরোধ করেছে, কিন্তু দেশটির কর্তৃপক্ষ তাদের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে।
ছেলেটির মা মালি বলেন, ‘বেশিরভাগ সময়ই সে কেমোথেরাপির ডোজ গ্রহণের ফলে দুর্বল এবং ক্লান্ত থাকে। কখনও কখনও সে ঘুমিয়ে থাকে, ঘন্টার পর ঘন্টা।’
২০২২ থেকে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে দোদি তার জীবনের বেশিরভাগ সময় হাসপাতালে কাটিয়েছে। কারণ লিম্ফোব্লাস্টিক লিউকেমিয়ার চিকিৎসা নিয়েছে। গত আগস্টে সে আবারও অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং এখন পশ্চিম তীরে ছেলেটির চিকিৎসার বিকল্পগুলো অনেকটাই শেষ হয়ে গেছে।
এখন তার পরিবার দোদিকে ইসরাইলে চিকিৎসার জন্য পাঠাতে চায়। কিন্তু বারবার তাদের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।
এদিকে, ইসরাইলি আদালত ইঙ্গিত করেছে যে, ছেলেটি গাজার মধ্যাঞ্চলীয় শহর দেইর আল-বালাহে জন্মগ্রহণ করেছিল। ২০২৫ সালের অক্টোবরে দক্ষিণ ইসরাইলে হামাস যোদ্ধাদের আকস্মিক আক্রমণের পর থেকে পশ্চিম জেরুজালেম ফিলিস্তিনি উপত্যকার সকল বাসিন্দার উপর প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

তবে, ইসরাইলি অলাভজনক সংস্থা গিশা আদালতে দোদির পক্ষে দাঁড়িয়েছে, যারা ফিলিস্তিনিদের বিশেষ করে গাজার জনগণের চলাচলের স্বাধীনতার পক্ষে।
গিশার নির্বাহী পরিচালক তানিয়া হ্যারি সংবাদমাধ্যম আরটি-কে বলেন, ‘তার অবস্থা বেশ গুরুতর, এবং পশ্চিম তীরে তার চিকিৎসার বিকল্প ফুরিয়ে এসেছে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তার চিকিৎসা করানো দরকার। চিকিৎসা সত্যিই হাতের নাগালের মধ্যে, শারীরিকভাবে বলতে গেলে এটি একটি ছোট গাড়ির দূরত্ব। আমাদের কেবল প্রতিশোধ, বর্ণবাদ, ঘৃণার এই প্রাচীরটি অপসারণ করা দরকার যাতে সে তার চিকিৎসার জন্য পৌঁছাতে পারে।’