গুরুগ্রামের শো ঘিরে বিতর্ক! কমেডিয়ান প্রণিত মোরে-সহ একাধিকের বিরুদ্ধে FIR

Spread the love

গুরুগ্রামে অনুষ্ঠিত একটি স্ট্যান্ড-আপ কমেডি শোকে কেন্দ্র করে বিতর্ক ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করেছে। এই ঘটনার জেরে স্ট্যান্ড-আপ কমেডিয়ান প্রণিত মোরে, হিমাংশু জাংরা, ডঃ সেজল পাওয়ার এবং আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে মহারাষ্ট্র সাইবার পুলিশ।

সংবাদ সংস্থা এএনআই-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নোডাল সাইবার পুলিশ স্টেশনে প্রণিত মোরে, হিমাংশু জাংরা, ডঃ সেজল পাওয়ার এবং অন্যান্যদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস), ২০২৩-এর ধারা ৭৫(১)(iv), ৭৫(৩), ২৯৪ এবং ৩৫৩(২) এবং তথ্য প্রযুক্তি (আইটি) আইন, ২০০০-এর ৬৭ ধারার অধীনে মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে নারী এবং মৃত ব্যক্তিদের নিয়ে অশ্লীল, আপত্তিকর ও অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

মহারাষ্ট্র সাইবার বিভাগের দাবি, বিতর্কিত অনুষ্ঠানটির বিভিন্ন অংশ রেকর্ড করে তা ডিজিটাল ও সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে পরিকল্পিতভাবে প্রচার ও ছড়িয়ে দেওয়া হয়। তদন্তকারীদের মতে, দর্শকসংখ্যা বৃদ্ধি, অনলাইন এনগেজমেন্ট বাড়ানো এবং মনিটাইজেশন ও অন্যান্য রাজস্ব-উৎপাদনকারী কার্যকলাপের মাধ্যমে আর্থিক ও বাণিজ্যিক সুবিধা অর্জনের উদ্দেশ্যেই এই কনটেন্ট ভাইরাল করার চেষ্টা করা হয়েছিল।

এদিকে, প্রণিত মোরে, হিমাংশু জাংরা এবং ডঃ সেজল পাওয়ারকে ইতিমধ্যেই সমন জারি করেছে মহারাষ্ট্র সাইবার ব্যুরো। তাঁদের বক্তব্য রেকর্ড করার জন্য নির্দিষ্ট সময়ে ব্যুরোয় হাজির হতে বলা হয়েছে। গোটা ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

কী ঘটেছিল প্রণিত মোরের শো-তে?

বিতর্কের সূত্রপাত হয় প্রণিত মোরের একটি লাইভ শো চলাকালীন। অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে দর্শকদের মধ্য থাকা হিমাংশু জাংরাকে আলোচনায় অংশ নেওয়ার জন্য মঞ্চে আমন্ত্রণ জানানো হয়। কথোপকথনের সময় জাংরা জানান, তিনি এক নারীকে ডেটে নিয়ে গিয়েছিলেন এবং সেখানে বিরিয়ানির জন্য প্রায় ৩৭০ টাকা খরচ করেছিলেন।

তবে ক্ষোভের সৃষ্টি হয় তাঁর পরবর্তী মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। জাংরা দাবি করেন, যেহেতু তিনি খাবারের বিল পরিশোধ করেছিলেন, তাই বিনিময়ে তিনি অন্তরঙ্গতা প্রত্যাশা করেছিলেন। এই মন্তব্যের ভিডিয়ো ক্লিপ দ্রুত সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে।

অনেক নেটিজেন ও দর্শকের অভিযোগ, জাংরার বক্তব্য ডেটিংকে একটি লেনদেনমূলক সম্পর্ক হিসেবে উপস্থাপন করে এবং একজন নারীকে এমন এক বস্তুর পর্যায়ে নামিয়ে আনে, যাকে অর্থ ব্যয়ের বিনিময়ে ‘অর্জন’ করা যায়। সামাজিক মাধ্যমে বহু ব্যবহারকারী এই মন্তব্যকে নারীবিদ্বেষী বলে আখ্যা দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *