বাংলাদেশের কুখ্যাত কব্জি-কাটা গ্যাংয়ের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ব়্যাব। ঢাকার আদাবর ও তেজগাঁও থানা এলাকায় দুটি ভিন্ন অপারেশন চালিয়ে এই তিন কুখ্যাত সমাজবিরোধীকে গ্রেফতার করেছে বাংলাদেশের ব়্যাব-টু। জানা গিয়ছে, এই তিন সদস্যই বাংলাদেশের কব্জি কাটা আনোয়ার গোষ্ঠীর সদস্য। ধৃতদের মধ্যে একজন কিশোর গ্যাং-র তাবড় নাম, ধ্বংস কবির।
গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ঢাকার আদাবর এলাকার শ্যামলী হাউজিংয়ের ৪ নম্বর সড়কে অভিযান চালায় বাংলাদেশের ব়্যাব। এই খবর ২৮ জুন, গোপন সূত্রে পায় বাংলাদেশের ব়্যাব। র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলে কব্জি কাটা আনোয়ার গ্রুপের অন্যতম সদস্য গ্যাংস্টার কবির, ওরফে ধ্বংস কবির। এলাকায় অনেকেই তাকে কিশোর গ্যাং লিডার ধ্বংস কবির হিসাবে চেনে। সেই জায়গা থেকে কবির ছাড়াও তার সহযোগী আবদুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আরেকটি অভিযানে মাদক ও ছিনতাই মামলার আসামি মহম্মদ বিল্লাল হোসেনকে গ্রেফতার করে ব়্যাব। তাঁর কাছ থেকে চাপাতি উদ্ধার হয়েছে। গ্রেফতারি থেকে মোচ তিনটি চাপাতি উদ্ধার হয়েছে বলে খবর।
এর আগে, গতবছর ফেব্রুয়ারিতে কব্জি-কাটা গ্রুপের মহম্মদ আনোয়ারকে গ্রেফতার করেছিল ব়্যাব। সেই সময় বিভিন্ন অস্ত্রের মধ্যে একটি সামুরাইও বাজেয়াপ্ত করে বাংলাদেশের প্রশাসন। অভিযোগ, বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় মাদক, ছিনতাই ও চাঁদাবাজির রাজত্ব গড়ে তুলেছিল কবজি কাটা গ্রুপ।
কীভাবে কাজ করত কব্জি-কাটা গ্রুপ?
বাংলাদেশের সংবাপত্র ‘যুগান্তর’র এক প্রতিবেদন বলছে, এলাকায় নিজের সাম্রাজ্য গড়তে চেয়ে কব্জি-কাটা গ্রুপের নেতা আনোয়ার ৭ জনের কব্জি কেটেছিল, বলে অভিযোগ। বহুজনকে আহত, পঙ্গু করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এই গোষ্ঠী সোশ্যাল মিডিয়াতেও নিজেদের দাপটের কথা খোলাখুলি স্বীকার করত বলেও দাবি করা হচ্ছে।
এই গ্রুপের অপরাধ সম্পন্ন করার একটি বিশেষ ঘরানা ছিল। যাতে তারা টার্গেট করবে বলে মনে করছে, তাকে ঘিরে রাস্তায় কৃত্তিম যানজট সৃষ্টি করত কব্জি-কাটা গ্যাং। এরপর তারা যানজট কমাতে সহযোগিতা করার নামে কৃত্রিম ব্লক সৃষ্টি করত। পরে আনোয়ার এসে টার্গেট করা ব্যক্তির ওপর হামলা করত। তার সামনে ও পেছনে একাধিক টিম থাকত। এই গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদককে কেন্দ্র করে বহু অভিযোগ রয়েছে।
