নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে সোমবার তীব্র রাজনৈতিক সংঘাতের ছবি সামনে এল বিধানসভায়। মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে কুরুচিকর ভাষা প্রয়োগ এবং উসকানিমূলক মন্তব্য করার অভিযোগ তুলে হুমায়ুনের বিরুদ্ধে অধিবেশন শুরুর পর থেকেই সরব হয় বিজেপি বিধায়করা। শাসক-বিরোধী বাগ্যুদ্ধে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বিধানসভার পরিবেশ। পরিস্থিতি সামাল দিতে হস্তক্ষেপ করতে হয় পরিষদীয় মন্ত্রী শংকর ঘোষকে। তিনি জানান, বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রী অবগত রয়েছেন এবং যথাসময়ে এ বিষয়ে তিনি নিজেই বিধানসভায় বিবৃতি দেবেন।
সোমবার প্রশ্নোত্তর পর্ব শুরু হওয়ার আগেই নাগরাকাটার বিজেপি বিধায়ক পুনা ভেঙরা অধ্যক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। এরপর নারায়ণগড়ের বিধায়ক রমাপ্রসাদ গিরি-সহ একাধিক বিজেপি বিধায়ক ‘হুমায়ুন হায় হায়’ লেখা পোস্টার হাতে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে অধিবেশন কক্ষ। বিজেপির অভিযোগ, একজন জনপ্রতিনিধির মুখে এ ধরনের ভাষা গণতান্ত্রিক পরিবেশকে কলুষিত করছে এবং তা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
সম্প্রতি মুর্শিদাবাদে এক রাজনৈতিক সভায় বিজেপিকে আক্রমণ করতে গিয়ে হুমায়ুন কবীর এমন কিছু মন্তব্য করেন, যা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বক্তব্যে তিনি বিজেপির জেলা নেতৃত্বকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন এবং বিরোধী দলকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রয়োজনে মুসলিম সমাজকে নিয়ে রাস্তায় নামবেন। তাঁর বক্তব্যে জেল খাটার প্রসঙ্গও উঠে আসে, যা বিজেপির মতে সরাসরি হিংসাকে উসকে দেওয়ার সামিল। এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই বিরোধী শিবির তাঁর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে আসছে।
