‘ছেলের ছবি চালানোর জন্য সিনেমা হল মালিকদের থ্রেট করছেন’

Spread the love

কদিন আগেই স্ক্রিনিং কমিটির ভিতরের খবর বাইরে এসে তুলকালাম কাণ্ড ঘটেছিল। বিশেষ করে দেব ও প্রসেনজিৎকে নিয়ে। শোনা গিয়েছিল যে, সিনেমার ক্যালেন্ডার তৈরি নিয়ে নাকি সিনিয়র প্রসেনজিৎকে অপমান করে বসেন দেব। এমনকী, ‘পদ্মশ্রী-টদ্মশ্রী’ বলে ‘অপমানও’ করেন। সেই সময় দেবের পক্ষ নিয়ে পোস্ট করেছিলেন টলিপাড়ার প্রযোজক রাণা সরকার। ফের তাঁর পোস্টে সেই পুরনো ঘটনারই ইঙ্গিত। আর এবার তো নাম নিয়ে। ইম্পা (EIMPA) সম্পাদক পিয়া সেনগুপ্তকে সোজাসুজি আক্রমণ। রাণার পোস্টে দাবি করা হয়েছে যে, পিয়া নাকি নিজের ছেলে বনির ছবি চালানোর জন্য জোর দিচ্ছে হল মালিকদের।

কী পোস্ট করেন রাণা সরকার?

রানা সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, ‘স্ক্রিনিং কমিটির প্রেসিডেন্ট হওয়া সত্ত্বেও পিয়া সেনগুপ্ত সাম্প্রতিক অতীতে যা যা পক্ষপাতিত্ব করেছেন সেটাকেও কি তীব্র ধিক্কার জানাবো নাকি ইগনোর করে দেব? যেভাবে দেব-কে অপমান করা হয়েছে খুলে বলবো? নাকি ইগনোর করব?’

এরপর বনি প্রসঙ্গ টেনে আরও লেখেন, ‘যেভাবে নিজের ছেলের সিনেমা চালানোর জন্য সিনেমা হল মালিকদের থ্রেট করেছেন সেটা বলব? নাকি ইগনোর করব? স্ক্রিনিং কমিটির ভেতরের কথা বাইরে প্রকাশ করে দিচ্ছে, তার দায় স্ক্রিনিং কমিটির প্রেসিডেন্টের, সেটাকে কি ধিক্কার জানাবো না ইগনোর করব?’

হঠাৎ কেন পিয়ার নামে পোস্ট রাণার?

আসলে ফেব্রুয়ারি মাসে রাণা একটি পোস্টে লেখেন, ‘শেষ চার সপ্তাহে কোন হিন্দি সিনেমা বাংলার সিনেমা হলে ভালো ব্যবসা করেছে? শুধু বাংলা সিনেমাকে দোষ দিয়ে কার লাভ হচ্ছে? রমজান বা পরীক্ষার মরসুমে কোন সিনেমা চলে? রাজ্য সরকারের নোটিফিকেশনকে দোষারোপ করা উদ্দেশ্যমূলক! হল বন্ধ রাখা কারো ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত হতেই পারে, তার জন্য বাংলা সিনেমাকে দোষারোপ করা অর্থহীন। এর পেছনে কে আছে ? ভোটের আগে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ?’

আর সেই পোস্টের উল্লেখই করেন পিয়া বুধবার ইম্পার অফিসে হওয়া এক বৈঠকে। আসলে স্ক্রিনিং কমিটি সিনেমার ক্যালেন্ডার তৈরির যে উদ্যোগ দেখিয়েছিল তা একপ্রকার ব্যর্থ। ফলত চাপে হল মালিকরা। আর তাই আজকের বৈঠক। যেখানে ইম্পা সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত, ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস-সহ সিনেপাড়ার তাবড় প্রযোজক, এক্সবিউটররাও উপস্থিত ছিলেন। সেখানেই রাণার এই পোস্টের উল্লেখ করে তাঁকে আক্রমণ করেন পিয়া।

পিয়া বেশ কড়া ভাষায় বলেন, ‘মানুষ খেতে পাচ্ছে না, আর তারা রাজনীতি করতে যাবে বলে মনে হয়? খাদ্য না পেলে রাজনীতি করবে কীভাবে? স্ক্রিনিং কমিটির সদস্য হিসেবে আশা করিনি যে উনি এমন একটা পোস্ট করবেন। মিটিংয়ে এই ঘটনাকে আমরা ধিক্কার জানাচ্ছি।’

আর এই মন্তব্যের পরই রাণার পোস্ট ছেলে বনিকে টেনে। এখন দেখার এঅ বিতর্কের জল কতদূর গড়ায়।

কী নিয়ে বিতর্ক হয়েছিল দেব-প্রসেনজিতের?

নতুন বছরের সিনে ক্যালেন্ডার নির্ধারণ করার জন্য ইম্পার দপ্তরে বৈঠক বসেছিল স্ক্রিনিং কমিটির। ইন্ডাস্ট্রির সূত্র জানা যায়, বৈঠক শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই আবহাওয়া গরম হয়ে ওঠে। সিনে ক্যালেন্ডার নিয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রসেনজিৎ এবং দেবের মধ্যে শুরু হয় বাকবিতণ্ডা। জানা যায়, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের পাওয়া পুরস্কার নিয়েও নাকি ব্যঙ্গ করেন অভিনেতা।

তবে বিতর্কের রেশ থামিয়ে দেন দেব ও প্রসেনজিৎ দুই পক্ষই। বুম্বাদার সঙ্গে ছবি পোস্ট করে লেখেন, ‘এমনি’। আবার সেই পোস্ট শেয়ার করে প্রসেনজিৎ লিখেছিলেন, ‘তুই এলি, কথা বললেই ভালো লাগলো। নিজের খারাপ লাগা গুলোকে সরিয়ে বাড়ির ভুল বোঝাবুঝিগুলোকে সামলানো টাই মনে হয় বড়দের কাজ। ভাল থাক। আদর।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *