কিছুদিন আগেই পরম-পত্নী পিয়া জানিয়েছিলেন তাঁদের ছেলের ৬ মাস পূর্ণ হয়েছে। ১ জুন পুত্র সন্তানের বাবা-মা হয়েছিলেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় ও পিয়া চক্রবর্তী। তারপর সব অপেক্ষার অবসান করে দেবীপক্ষে ছেলের ছবি সামনে আনেন তাঁরা। সঙ্গে ছেলের নামও জানান। আর এবার ছেলের অন্নপ্রাশন পালন করেন পরম-পিয়া।
ছেলের অন্নপ্রাশনে রঙমিলান্তিতে সেজে উঠেছিলেন তাঁরা। গোলাপি রঙের পাঞ্জাবি আর গোলাপি সুতোর কাজ করা ছোট্ট ধুতিতে বাবার কোলে দেখা মেলে খুদে নিষাদের। ভারী মিষ্টি দেখাচ্ছিল একরত্তিকে। পরমও ছেলের মতো একই ধরনের গোলাপি পাঞ্জাবিতে সেজেছিলেন। অন্যদিকে পিয়াও ধরা দিয়েছিলেন গোলাপি শাড়ি ও ম্যাজিক ব্লাউজে। কানে ঝোলা দুল আর চিরাচরিত হালকা মেকআপে ধরা দিয়েছিলেন তিনি, গলায় হালকা নেকলেসও পরেছিলেন। জানা গিয়েছে টলি ক্লাবে বসেছিল পরম-পুত্রের অন্নপ্রাশনের আসর।
সেখানে টলিপাড়ার অনেকেই যে গিয়েছিলেন তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এসেছিলেন শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়। তাছাড়াও প্রসেনজিৎ চট্টপাধ্যায়, মুনমুন সেন, কোয়েল মল্লিক, রাইমা সেন, পার্ণো মিত্র, কাঞ্চন মল্লিক। তাছাড়াও স্ত্রীকে নিয়ে হাজির হয়েছিলেন আবির চট্টোপাধ্যায়ও। তবে কেবল বিনোদন জগতেই থেমে ছিল না অতিথিদের তালিকা। রাজনৈতিক ক্ষেত্রে থেকে তৃণমূল নেতা অরূপ বিশ্বাসও হাজির হয়েছিলেন।
প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই পিয়া তাঁর ছেলেকে নিয়ে ২০২৬-এ কী কী প্ল্যান রয়েছে তা ভাগ করে নেন অনুরাগীদের সঙ্গে। তিনি জানিয়েছিলেন, ‘২০২৬-এর জন্য প্ল্যান: একটা ছোট্ট মানুষকে শেখাবো কীভাবে খেতে হয়, বসতে হয়, হামা দিতে হয়, জল খেতে হয়, কীভাবে প্রথম পা ফেলে হাঁটতে হয় আর সঙ্গে ওর প্রথম কথা বলা।’ আর এবার নতুন বছরের আগেই ছেলের অন্নপ্রাশন করলেন তাঁরা।
উল্লেখ্য, আসলে আর পাঁচটা শিশুর মতো নিষাদও বেড়ে উঠছে। তাকেও এক এক করে সব শেখাতে হবে। পরিকল্পনাতে না থাকলেও স্বাভাবিক নিয়মে সে শিখবে, আর তাকে শেখানোর প্রয়োজনও পড়বে। তাই সে রকম বড় কিছু না হলেও জীবনের ভিত গড়ার খুব গুরুত্বপূর্ণ কিছু অধ্যায়ের সঙ্গে মা পিয়া ছেলেকে পরিচয় করাবেন। আর সে কথাতেই খানিক ভার চাপিয়ে তিনি অনুরাগীদের সঙ্গে ভাগ করে নেন।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে মা-বাবা হতে চলার খবর ভাগ করে নেন পরমব্রত ও পিয়া। তারপর জুনে কোন আলো করে আসে ছেলে। ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে দু’জনে করেছিলেন আইনি বিয়ে।
সন্তান জন্মের আগে বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট ছেড়ে, একটি বাড়ি কিনেছিলেন পরমব্রত আর পিয়া। যাতে খোলামেলা পরিবেশে বড় হতে পারে তাঁদের সন্তান। পাড়ার মাঠে বা পার্কে খেলা করতে পারে, আশেপাশের মানুষের সঙ্গে মিশতে পারে, আর পাঁচটা সাধারণ বাচ্চার মতোই বড় হয়ে ওঠে, মা-বাবার তারকা-খ্যাতির উপরে উঠে।