মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত কমানোর চেষ্টা কি গতি পাচ্ছে? মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি-ইঙ্গিতের পর থেকেই মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উঠে আসছে পাকিস্তানের নাম। সূত্রের খবর, সিনিয়র মার্কিন ও ইরানিয়ান কর্মকর্তাদের মধ্যে ইসলামাবাদে এই সপ্তাহেই একটি বৈঠক হতে পারে। জানা যাচ্ছে, তুরস্ক এবং মিশরও পশ্চিম এশিয়ার সংঘর্ষে মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করছে। যদিও ওয়াশিংটন এখনও এমন কোনও পরিকল্পনা নিশ্চিত করেনি।
বার্তা সংবাদ এএনআই-র প্রতিবেদন অনুসারে, হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিনা লেভিট অবশ্য নিশ্চিত করেননি ইসলামাবাদে কোনও বৈঠক পরিকল্পনা করা হচ্ছে কিনা, তিনি পরিস্থিতির সংবেদনশীলতার উপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘এগুলো সংবেদনশীল কূটনৈতিক আলোচনা ৷ আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রেসের মাধ্যমে কোনও আলোচনা করবে না। এটা একটা পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি, আর বৈঠক নিয়ে কোনও জল্পনা হোয়াইট হাউস আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা না করা পর্যন্ত চূড়ান্ত বলে ধরা উচিত না।’
মার্কিন-ইরান আলোচনা পাকিস্তানে?
সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইজরায়েল এবং ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি নিয়ে বেশ কিছু দিন ধরেই কাজ করে চলেছে পাকিস্তান, তুরস্ক এবং মিশর। ইজরায়েলের এক আধিকারিকের বরাত দিয়ে জানা গেছে, চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে সব পক্ষকে নিয়ে ইসলামাবাদে বৈঠক হতে পারে। সেই মতো প্রস্তুতি চলছে এই মুহূর্তে। এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধি হিসেবে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানের পাশাপাশি তুরস্ক, মিশর এবং কাতারও সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। হোয়াইট হাউসের বিশেষ প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারও আলোচনায় যোগ দিতে পারেন। অন্যদিকে, ইরানের সংসদের স্পিকার মহম্মদ বাঘের গালিবাফ বৈঠকে অংশগ্রহণ করতে পারেন। যদিও ইরানের তরফে এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট ভাবে কোনও বার্তা আসেনি। বরং একদিন আগে, ট্রাম্প যখন যুদ্ধবিরতির ইঙ্গিত দেন, তেহরান পরিষ্কার জানায়, গত ২৪ দিনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনও আলোচনায় বসেনি তারা।

অন্যদিকে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে তাঁর। পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ফিরিয়ে আনতে তাঁকে সবরকম সহোযোগিতা করার কথা জানিয়েছে পাকিস্তান। গত এক মাসে বার বার কথা হয়েছে তাঁদের মধ্যে। এমনিতে রমজান এবং ইদেও কথা হয়েছে। তিনি আশাবাদী, শীঘ্রই যুদ্ধ শেষ হবে।