রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চায়। তার মতে, ওয়াশিংটন ইরান ও ভেনেজুয়েলার মতো দেশে যে নীতিগুলো অনুসরণ করছে, তার মূল উদ্দেশ্য শুধু তেল ও জ্বালানি স্বার্থ রক্ষা করা।
আজ শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘শুধু নিজের স্বার্থ নিয়েই ভাবে’ এবং সেই স্বার্থ রক্ষায় অভ্যুত্থান, অপহরণ বা নেতাদের হত্যার মতো কঠোর পন্থাও নিতে প্রস্তুত।
ল্যাভরভ দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন আর তার উদ্দেশ্য লুকাচ্ছে না এবং তারা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে আধিপত্য বিস্তারের একটি নীতি অনুসরণ করছে। তার ভাষায়, ‘এটি এক ধরনের জ্বালানি নিয়ন্ত্রণের কৌশল।’তিনি সতর্ক করে বলেন, এই ধরনের নীতি আন্তর্জাতিক আইনকে দুর্বল করে দিচ্ছে এবং বিশ্ব রাজনীতি ধীরে ধীরে নিয়মের বদলে শক্তির ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে। তার কথায়,
এর মানে হলো আন্তর্জাতিক আইন বলে আর কিছুই অবশিষ্ট নেই এবং এর পরিবর্তে ‘জোর যার, মুল্লুক তার’ এই ধারণা দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে।
ল্যাভরভ যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক আচরণেরও সমালোচনা করেন। তার মতে, সংঘাতের বদলে সংলাপ প্রয়োজন, কিন্তু ওয়াশিংটন প্রায়ই চুক্তি থেকে সরে আসে এবং নীতির পরিবর্তনের কারণে উত্তেজনা বাড়ে।

রাশিয়ার প্রবীণ এই কূটনীতিক ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ইউরোপের জ্বালানি সংকট নিয়েও কথা বলেন। তার অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপীয় দেশগুলোকে রাশিয়ার জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে চাপ দিচ্ছে এবং এমন নীতি অনুসরণ করছে যা ‘উপনিবেশিক যুগের’ মতো মনে হয়।