টিকিট পাননি আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের জন্য। তার আগে অবশ্য তিনবার বিধায়ক থেকেছেন। তিনি বিধায়ক অসিত মজুমদার। তবে চুঁচুড়ায় এবার দেবাংশু ভট্টাচার্যকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এই আবহে রাজনীতি থেকে ‘বিশ্রাম নেওয়ার’ কথা বললেন অসিত। সঙ্গে দেবাংশুকে শুভেচ্ছা জানান তিনি। তবে তাঁর গলায় দলের প্রতি অভিমান ও ক্ষোভের সুরও ছিল। এরই সঙ্গে নিজের পুরনো পেশায় ফিরে যাওয়ার কথাও বলেন অসিত মজুমদার।
টিকিট না পাওয়ার বিষয়ে অসিত সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘দল আগে। দেবাংশুকে আমরা স্বাগত জানাচ্ছি। ওকে বিপুল ভোটে জিতিয়ে আমরা বিধায়ক বানাব। রাজনীতি থেকে সন্ন্যাস নিলাম। দল বললেই কাজ করতে হবে? আমি কি দলের ঠ্যাকা নিয়ে আছি? আমরা তো চুনোপুটি লোক, তাহলে আমাদের সাথে কেন কথা বলবে। আমি মনে করেছি খামতি নেই, ওরা মনে করেছে আমার খামতি আছে। না হলে তিনবারের বিধায়ক হওয়া সত্ত্বেও আমাকে এবার টিকিট দিল না কেন?’
এদিকে আগামীতে কী করবেন? সেই প্রশ্নের জবাবে অসিত বলেন, ‘আবার দরকার হলে ওকালতি শুরু করব। উকিলের ডিগ্রি আছে, বার কাউন্সিলের সার্টিফিকেট আছে আবার কোর্টে যাব। তবে রাজনীতি আর করব না।’ এদিকে টিকিট পাওয়া দেবাংশু আবার বলেন, ‘আগামী পাঁচ বছরে সাধারণ মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে একটি ‘নতুন চুঁচুড়া’ গড়ে তোলাই আমার প্রধান লক্ষ্য। চুঁচুড়ার মানুষ অত্যন্ত সচেতন। তাঁরা যেভাবে চুঁচুড়াকে দেখতে চান, তাঁদের সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে আমি দলীয় নেতৃত্ব ও স্থানীয় মানুষকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করব।’

প্রসঙ্গত, অসিতের সঙ্গে হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠী কোন্দল বারবার তৃণমূলকে অস্বস্তিতে ফেলেছে। এই আবহে দলের অন্তর্দ্বন্দ্ব মেটাতে অসিতকে এবার টিকিট না দেওয়া হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই। ২০১১ সালে প্রথম তৃণমূলের হয়ে ভোটে দাঁড়ান অসিত মজুমদার। ভোটে জিতে বিধায়ক হন তিনি। তারপর থেকে টানা তিনবারের বিধায়ক অসিত মজুমদার। এবার তাঁর গলায় রাজনীতি থেকে সন্ন্যাস নেওয়ার বার্তা।