‘ডিউক অব ইয়র্ক’সহ সব রাজকীয় উপাধি ত্যাগ প্রিন্স অ্যান্ড্রুর

Spread the love

ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লসের ছোট ভাই ও প্রয়াত রানি এলিজাবেথের দ্বিতীয় পুত্র প্রিন্স অ্যান্ড্রু তার রাজকীয় উপাধি ‘ডিউক অব ইয়র্ক’ এবং অন্যান্য সম্মানসূচক রাজকীয় খেতাব ত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়াত কুখ্যাত নারী নিপীড়নকারী জেফরি এপস্টেইনের কেলেঙ্কারির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা এবং বিতর্কিত নানা আচরণ নিয়ে দীর্ঘদিনের সমালোচনার প্রেক্ষিতে শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) এই ঘোষণা দেন তিনি। বাকিংহাম প্যালেস থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, রাজা তৃতীয় চার্লস ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনার পর প্রিন্স অ্যান্ড্রু এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি আর ‘ডিউক অব ইয়র্ক’, ‘নাইট গ্র্যান্ড ক্রস অব দ্য রয়্যাল ভিক্টোরিয়ান অর্ডার’ ও ‘রয়্যাল নাইট কম্প্যানিয়ন অব দ্য অর্ডার অব দ্য গার্টার’ উপাধিগুলো ব্যবহার করবেন না।

এ ব্যাপারে অ্যান্ড্রু বলেছেন, ‘মহামান্য রাজা ও পরিবারের সঙ্গে আলোচনা শেষে আমরা মনে করেছি, আমার বিষয়ে চলমান অভিযোগসমূহ রাজপরিবারের দায়িত্ব ও কাজ থেকে মনোযোগ সরিয়ে নিচ্ছে। আমি পরিবার ও দেশের স্বার্থে আমার উপাধি ও সম্মানসূচক খেতাবগুলো ব্যবহার বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ 

তবে তিনি ‘প্রিন্স’ উপাধিটি রাখবেন, যা জন্মসূত্রে প্রাপ্ত হওয়ায় আইনত বাতিলযোগ্য নয়। অ্যান্ড্রুর সাবেক স্ত্রী সারা ফার্গুসনও ‘ডাচেস অব ইয়র্ক’ উপাধি আর ব্যবহার করবেন না। তবে তাদের দুই কন্যা, প্রিন্সেস বিট্রিস ও প্রিন্সেস ইউজেনির উপাধি অপরিবর্তিত থাকবে।

অ্যান্ড্রুকে একসময় একজন দক্ষ নৌ কর্মকর্তা হিসেবে বিবেচনা করা হত। ১৯৮০-এর দশকের গোড়ার দিকে আর্জেন্টিনার সাথে ফকল্যান্ড যুদ্ধের সময় তিনি সামরিক বাহিনীতে দায়িত্ব পালন করেন।

কিন্তু এরপর তিনি একজন প্লেবয় রাজপুত্র হিসেবে কুখ্যাতি অর্জন করেন এবং ২০২২ সালে কুখ্যাত মার্কিন নারী নিপীড়ক এপস্টেইনের সাথে তার সম্পর্কের বিষয়টি সামনে এলে তার বেশিরভাগ পদবি কেড়ে নেয়া হয় এবং সেই সঙ্গে রাজকীয় দায়িত্ব থেকে অপসারণ করা হয়।

ভার্জিনিয়া রবার্টস জিওফ্রে এক নারী তার স্মৃতিকথায় অভিযোগ করেন, তিনি এপস্টেইনের হাতে পাচারের শিকার হয়েছিলেন এবং যখন তিনি অপ্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন তখন অ্যান্ড্রুর সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতে বাধ্য করা হয়।

জিওফ্রে ৪১ বছর বয়সে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে আত্মহত্যা করে মারা যান। স্মৃতিকথায় তিনি প্রিন্স অ্যান্ড্রুর সাথে কথিত সাক্ষাতের বিবরণ দিয়েছেন, যার বিরুদ্ধে তিনি ২০২১ সালে মামলা করেন। দাবি করেন, ১৭ বছর বয়সে তাদের যৌন সম্পর্ক হয়েছিল। অ্যান্ড্রু এই অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং ২০২২ সালে মামলাটি অর্থের বিনিময়ে নিষ্পত্তি করেন। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *