দক্ষিণ কোরিয়ার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটিক পার্টি অব কোরিয়া (ডিপিকে) বড় ধরনের জয়ের পথে রয়েছে। বুথফেরত জরিপের ফলাফলে এমন ইঙ্গিত মিলেছে।
আজ বুধবার (৩ জুন) স্থানীয় নির্বাচনে ভোটগ্রহণ করা হয়। বুথফেরত জরিপে দেখা যায়, অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ মেয়র ও গভর্নর নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন। তবে রাজধানী সিউলের মেয়র নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে ভোট গণনা স্থগিতের আহ্বান জানিয়েছে বিরোধী দলগুলো।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান তিন সম্প্রচারমাধ্যম কেবিএস, এমবিসি ও এসবিএসের যৌথ এক্সিট পোল অনুযায়ী, ১৬টি মহানগর ও প্রাদেশিক প্রধানের নির্বাচনের মধ্যে ১১টিতে ডিপিকে প্রার্থীরা এগিয়ে আছেন।
প্রধান বিরোধী পিপল পাওয়ার পার্টি (পিপিপি) নিশ্চিতভাবে এগিয়ে রয়েছে মাত্র একটি আসনে। বুসান, ডেগু, গাংওন ও উত্তর জেওল্লা প্রদেশের ফলাফলে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে। সন্ধ্যা পর্যন্ত বিজয়ী নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।
সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে রাজধানী সিউলের মেয়র নির্বাচন। এক্সিট পোল অনুযায়ী, ডিপিকে প্রার্থী চং ওন-ও ৫১ দশমিক ৪ শতাংশ সমর্থন নিয়ে এগিয়ে রয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান মেয়র ও পিপিপি প্রার্থী ও সে-হুন পেয়েছেন ৪৬ শতাংশ সমর্থন। যদি এই ফল চূড়ান্ত ফলাফলেও প্রতিফলিত হয়, তাহলে রাজধানীর রাজনৈতিক নেতৃত্বে বড় পরিবর্তন আসতে পারে।
দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর বুসানেও ডিপিকে প্রার্থী চুন জে-সু সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। অন্যদিকে রক্ষণশীলদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ডেগুতেও দুই প্রধান দলের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা গেছে। গিয়ংগি প্রদেশে সাবেক বিচারমন্ত্রী চু মি-এ বড় ব্যবধানে এগিয়ে থেকে ক্ষমতাসীন শিবিরের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়েছেন।
এক্সিট পোল প্রকাশের পর ডিপিকের নির্বাচনী কার্যালয়ে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। দলটির নেতারা এটিকে প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং প্রশাসনের প্রতি জনগণের সমর্থনের প্রতিফলন হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তাদের মতে, এটি সরকারের প্রথম বছরের কর্মকাণ্ডের প্রতি জনগণের ইতিবাচক মূল্যায়নের ইঙ্গিত বহন করে।

তবে নির্বাচনকে ঘিরে বিতর্কও কম নয়। পিপিপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান জাং ডং-হিয়ক সিউল মেয়র নির্বাচনকে ‘দূষিত’ আখ্যা দিয়ে ভোট গণনা স্থগিতের দাবি জানিয়েছেন।