ভোটমুখী বাংলাদেশে নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার পরই রাজনৈতিক অশান্তি শুরু হয়ে গিয়েছে। ঢাকার জনবহুল বাজার এলাকায় অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীদের হাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন সম্ভাব্য স্বতন্ত্র্য প্রার্থী ওসমান হাদি। তাঁর মস্তিষ্ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই আবহে মহান বিজয় দিবসে রাজধানীর ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাঙা বাড়িতে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, সিরাজুল আলম খান, সিরাজ সিকদার, মেজর জলিলের সঙ্গে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের নেতা ওসমান হাদির ছবি টাঙানো হয়।
মঙ্গলবার বাংলাদেশের মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে ঢাকায় জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম সদস্য সচিব আরিফ সোহেলের নেতৃত্বে একটি বিজয় র্যালি হয়। র্যালি শেষে ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের ভাঙা বাড়িতে মুক্তিযুদ্ধ ও গণআন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের ছবি টানিয়ে কর্মসূচি পালন করা হয়। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিশানা করে আরিফ সোহেল বলেন, ‘আওয়ামী ফ্যাসিস্ট আমলে মুক্তিযুদ্ধকে শেখ পরিবার ও আওয়ামী লিগের সম্পত্তিতে পরিণত করা হয়েছিল। যদিও পাক আক্রমণের মুখে পালিয়ে যাওয়া আওয়ামী লিগের অপেক্ষা না করেই দেশের কৃষক-শ্রমিক-ছাত্র-জনতা স্বতস্ফূর্তভাবে একাত্তরের জনযুদ্ধকে বিজয়ের দিকে নিয়ে গেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘একাত্তরের জনযুদ্ধ ও পরবর্তী সংগ্রামের মুছে দেওয়া বীর সিরাজ শিকদার, সিরাজুল আলম খান, মেজর জলিল, মওলানা ভাসানী এবং আজকের সংগ্রামের পথিকৃৎ ওসমান হাদিকে স্মরণে রেখে আমরা একটি সংক্ষিপ্ত বিজয় র্যালি করে ধানমন্ডি বত্রিশে গিয়েছি। এই র্যালির মধ্য দিয়ে আমরা একাত্তরের জনযুদ্ধকে শেখ পরিবারের ও আওয়ামী ন্যারেটিভের কবল থেকে জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার সংগ্রামকে তাৎপর্য দিতে চেয়েছি। এই ধরনের কর্মসূচি সামনেও চলতে থাকবে।’
এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা দাবি করেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ব্যাখ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে জনগণের সম্মিলিত সংগ্রাম হিসেবে তুলে ধরাই তাদের লক্ষ্য। বিজয় দিবসের এই কর্মসূচির মাধ্যমে তারা সেই বার্তাই দিতে চেয়েছেন। এদিন ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে এই কর্মসূচি ঘিরে উপস্থিত জনতার মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। আয়োজকদের মতে, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের নানা ধারার অবদানকে সামনে আনার এই উদ্যোগ ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে। প্রসঙ্গত, বাংলদেশের নির্বাচনের দিন ঘোষণার পরের দিনই ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য নির্দল প্রার্থী এবং ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদিকে গুলি করার ঘটনা ঘটে। এর ফলে, নির্বাচনে প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ কিছু ব্যক্তির নিরাপত্তা নিয়েও আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ওসমান হাদিকে সোমবার দুপুরে একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়।
