‘ধুরন্ধর’ স্টাইল! পাকিস্তানের রহস্য মৃত্যু জইশ চিফ মাসুদের ভাইয়ের

Spread the love

পাকিস্তানের মাটিতে আরও বিপর্যয়ের মুখে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ। সূত্রের খবর, পাকিস্তানে রহস্যজনক ভাবে মৃত্যু হল জইশ প্রধান মাসুদ আজহারের বড় ভাই মহম্মদ তাহির আনোয়ারের। নিষিদ্ধ সংগঠনের নিজস্ব অফিশিয়াল চ্যানেলে বিবৃতি দিয়ে তাহিরের মৃত্যুর খবর আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করে নিয়েছে জইশ-ই-মহম্মদ। তবে ঠিক কীভাবে বা কী কারণে জইশ প্রধানের ভাইয়ের মৃত্যু ঘটল, তা নিয়ে সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্ব সম্পূর্ণ নীরব। আর এখানেই ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য।

জইশের তরফে জানানো হয়েছে, সোমবার গভীর রাতে কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে বাহাওয়ালপুরের ‘জামিয়া মসজিদ উসমান ওয়ালি’-তে মহম্মদ তাহির আনোয়ারের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। বেশ কিছু রিপোর্ট অনুযায়ী জানা যায়, তাহির আনোয়ার ছিল জইশ প্রধান মাসুদ আজহারের পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে বড় ভাই। সে পর্দার আড়ালে থেকেই সংগঠনের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলাতেন। জইশ-ই-মহম্মদের পক্ষ থেকে জারি করা শোকবার্তায় তাকে সিনিয়র নেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সবথেকে বড় ব্যাপার, সংগঠনের প্রচারে এবং বিভিন্ন কার্যকলাপে সে দীর্ঘ বছর ধরেই সক্রিয় ছিল, এবং সাধারণ মানুষকে জঙ্গি প্রশিক্ষণ দিত।

গত কয়েক বছরে মাসুদ আজহারের পরিবারে একের পর এক ধাক্কা লাগছে। মাসুদ আজহার দাবি করেছিল, ভারতের অপারেশন সিঁদুর অভিযানে বাহাওয়ালপুরে অবস্থিত জইশের অন্যতম প্রধান নার্সারি ‘জামিয়া মসজিদ সুবহান আল্লাহ-তে হামলায় তার পরিবারের অন্তত দশজন সদস্য নিকেশ হয়েছিল। এই হামলায় মাসুদ আজহারের নিজের বোন, ভগ্নিপতি, এক ভাইপো, এক ভাইঝি-সহ পরিবারের অন্যান্য শিশু সদস্যদের মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের সদস্য ছাড়াও, জইশ প্রধানের একাধিক ছায়াসঙ্গী এবং সংগঠনের প্রথম সারির বেশ কয়েকজন কমান্ডারও এই হামলায় খতম হয়েছে। এরপর তাঁর বড় ভাইয়ের মৃত্যু মাসুদের জন্য যে বিরাট ধাক্কা তা বলার অপেক্ষা রাখে না। গত বছর পরিবারের সদস্যদের হারিয়ে মাসুদের যে প্রতিক্রিয়া একাধিক সংবাদমাধ্যমে এসেছিল, সেখানে সে বলে, ‘আজ রাতে আমার পরিবারের দশজন সদস্য আল্লার আশীর্বাদধন্য হয়েছে… পাঁচজন নিষ্পাপ শিশু, আমার বড় বোন, তার স্বামী। আমার ভাগ্নে এবং তার স্ত্রী, আমার ভাইপো… আমার প্রিয় ভাই (জ্ঞাতি) হুজাইফা এবং তার মা। আরও দু’জন প্রিয় সঙ্গী।’ বাস্তবে বিধ্বস্ত হলেও স্বভাব মতো মুখে সেকথা আনেনি কুখ্যাত সন্ত্রাসবাদী। বরং বলে, ‘আফশোস নেই, হতাশও নই। বরং, আমার মনে বারবার এই কথা আসছে যে আমিও যদি এই চৌদ্দ সদস্যের সঙ্গে জন্নতের যাত্রায় যোগ দিতে পারতাম।’ মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গির আরও বক্তব্য, ‘তাদের চলে যাওয়ার সময় এসেছিল, কিন্তু আল্লা তাদের হত্যা করেননি।’

বলা বাহুল্য, ভারতবিরোধী কার্যকলাপে জইশ-ই-মহম্মদ বরাবরই কুখ্যাত। ২০০১ সালের সংসদ হামলা থেকে শুরু করে ২০০৮ সালের মুম্বই হামলা, এমনকী ২০১৬ সালের পাঠানকোট বা ২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলার মতো ভয়াবহ নাশকতার সঙ্গে এই জইশ-ই-মহম্মদেরই হাত ছিল। সংগঠনের প্রধান মাসুদ আজহার ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকার শীর্ষে থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে সে জনসম্মুখে আসেন না। তার বর্তমান অবস্থান এবং স্বাস্থ্য নিয়ে নানারকম গুজব ছড়ালেও ভাইদের মাধ্যমে সে সংগঠন চালিয়ে যাচ্ছিল বলেই খবর। দীর্ঘ সময় ধরে ভারতের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকায় রয়েছে মাসুদ। এমনকী, রাষ্ট্রসংঘও মাসুদকে ‘জঙ্গি’ বলে দাগিয়ে দেয়। ২০০২ সালে সরকারি ভাবে জইশ-ই-মহম্মদকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ, তা কেবল খাতায়কলমে। পাকিস্তানের এই ক্যাম্পাসে বসে বিনা বাধায় কাজ করত জইশ জঙ্গিরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *