নির্বাচন কমিশনের এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলে কলকাতা হাইকোর্টে তৃণমূল

Spread the love

পশ্চিমবঙ্গে ভোট নির্ঘণ্টের পরপরই একাধিক পুলিশ আধিকারিক এবং আমলাকে বদলি করেছে নির্বাচন কমিশন। এই আবহে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়ে নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। উল্লেখ্য, কমিশনের এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলে কলকাতা হা‌ই কোর্টে জনস্বার্থ মামলা করতে চান তৃণমূলের আইনজীবী অর্ক নাগ। এই বিষয়টি হাই কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করে কল্যাণের দাবি, এত বদলির জেরে প্রশাসনিক কাজ ব্যাহত হচ্ছে। এই আবহে হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, আগামী সপ্তাহে এই মামলার শুনানি হবে।

উল্লেখ্য, গত ১৫ মার্চ মধ্যরাত থেকেই পুলিশ প্রশাসনে রদবদল শুরু করেছিল নির্বাচন কমিশন। প্রথমে রাজ্যের মুখ্যসচিব এবং স্বরাষ্ট্রসচিব পদে রদবলদ করা হয় রবিবার রাতেই। পরে রাজ্যের ডিজিপি এবং কলকাতা পুলিশের কমিশনার পদে রদবদল করে কমিশন। পীযুষ পাণ্ডের জায়গায় নতুন ডিজি করা হয় সিদ্ধিনাথ গুপ্তকে। এবং সুপ্রতিম সরকারের বদলে কলকাতা পুলিশের নয়া কমিশনার হন অজয় নন্দ।

এরপর কলকাতার ডিসি (সেন্ট্রাল) পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়কে। এরই সঙ্গে রাজ্যের ১২ জায়গায় পুলিশ সুপারকেও পাল্টে দেয় নির্বাচন কমিশন। বীরভূম, ডায়মন্ড হারবার, পূর্ব মেদিনীপুর, কোচবিহার, মালদার পুলিশ সুপাররা এই তালিকায় রয়েছেন। এরপর ১৮ মার্চ নয়া নির্দেশিকা জারি করে পাঁচ ডিআইজি, দুই পুলিশ কমিশনার এবং একঝাঁক জেলাশাসককে সরিয়ে দেওয়া হয়। রায়গঞ্জ, মুর্শিদাবাদ, বর্ধমান, জলপাইগুড়ি এবং প্রেসিডেন্সি রেঞ্জের ডিআইজিদের সরিয়ে দেওয়া হয়। ১১ জেলার জেলাশাসকদের সরানো হয়। বিধাননগর এবং শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনারকেও সরিয়ে দেওয়া হয়।

তারপর মুরলীধর শর্মা, আকাশ মাঘারিয়া, ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়ের মতো একাধিক আইপিএসকে অন্যত্র বহাল করেছিল রাজ্য সরকার। তবে সেই নিয়োগ বাতিল করে ভিনরাজ্যের ভোটে অবজার্ভার করে পাঠানোর নির্দেশ দেয় নির্বাচন কমিশন। তবে এই পুলিশ আধিকারিকদের অবজার্ভার হিসেবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়নি। যদিও নির্বাচন কমিশন দাবি করেছে, অবজার্ভার হিসেবে নিয়োগ করতে সংশ্লিষ্ট পুলিশ আধিকারিদের প্রশিক্ষণ অপরিহার্য নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *