নোবেল শান্তি পুরস্কারের অর্থ কি আটকে যাবে?

Spread the love

চলতি বছর নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতে আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন ভেনেজ়ুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো। কিন্তু পুরস্কারের অর্থ আদৌ তিনি পাবেন কিনা, তা নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। নোবেল কমিটির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করলেন উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ। তাঁর দাবি, ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক পদক্ষেপের প্রতি মাচাদোর সমর্থন-নোবেল শান্তি পুরস্কারের মূল নীতির পরিপন্থি। তাই ট্রাম্প-পন্থী এই নেত্রীকে যেন এক টাকাও না দেওয়া হয়।

এক্স পোস্টে উইকিলিকস জানিয়েছেন, জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ নোবেল ফাউন্ডেশনকে পুরস্কার হিসেবে মাচাদো যে ১০ লক্ষ ডলারেরও বেশি অর্থ পেতে যাচ্ছেন, তা আটকাতে চাইছেন। আলফ্রেড নোবেলের উইলের কথা উল্লেখ করে আবেদনে অ্যাসাঞ্জ জানান, উইল অনুযায়ী শান্তি পুরস্কার কেবলমাত্র সেই ব্যক্তিদের দেওয়া উচিত যারা ‘জাতির মধ্যে ভ্রাতৃত্ব স্থাপন, স্থায়ী সেনাবাহিনীর বিলুপ্তি বা হ্রাসের জন্য এবং শান্তি সম্মেলন আয়োজন ও প্রচার এবং মানবজাতির জন্য সর্বোত্তম কাজ’ করেছেন। সম্প্রতি অ্যাসাঞ্জ এক সাক্ষাৎকারে মাচাদোর মন্তব্যের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, তিনি সেই মানদণ্ড পূরণ করেন না। রবিবার সিবিএস নিউজের ‘ফেস দ্য নেশন’ অনুষ্ঠানে মাচাদো ভেনেজুয়েলার প্রতি ট্রাম্পের কঠোর নীতিকে সমর্থন জানান, যার মধ্যে রয়েছে কড়া নিষেধাজ্ঞা এবং তেল ট্যাঙ্কার বাজেয়াপ্ত করা। সাক্ষাৎকারে মাচাদো জানিয়েছিলেন, তিনি ট্রাম্পকে পূর্ণ সমর্থন করেন। ভেনেজুয়েলার জনগণ তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ বলেও দাবি করেছিলেন নোবেলজয়ী। এখানেই আপত্তি অ্যাসাঞ্জের। তাঁর অভিযোগ, নোবেল পুরস্কারের অর্থ যদি মাচাদোর হাতে যায়, তাহলে সেটা আগ্রাসন বা যুদ্ধে ব্যবহৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আর তেমনটা ঘটলে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের ২৫(৩)(সি) ধারা অনুযায়ী সুইডেনও দায়িত্ব এড়াতে পারে না।

ওই ধারায় বলা হয়েছে, যদি কেউ সরাসরি যুদ্ধাপরাধ না করেও এমন কাজে সাহায্য করে, উৎসাহ দেয় বা সমর্থন জোগায়, তা হলে তাঁকেও সেই অপরাধের অংশীদার হিসাবে ধরা হবে। সোজা কথায়, নোবেল কমিটিকেও এই আইনের আওতায় বাঁধতে চেয়েছেন অ্যাসাঞ্জ। তাঁর অভিযোগ, ‘শান্তি প্রচারের জন্য আলফ্রেড নোবেলের দান যুদ্ধের প্রচারে ব্যয় করা যাবে না।’ অ্যাসাঞ্জ বলেন, ‘মাচাদো ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনকে উস্কে দিচ্ছেন।’ এখনও পর্যন্ত এই মামলা নিয়ে নোবেল কমিটি বা মাচাদো, কেউই প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি। তবে অ্যাসাঞ্জ স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এই লড়াই তিনি শেষ পর্যন্ত চালিয়ে যাবেন। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তাই নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘিরে অনিশ্চয়তা আরও ঘনাচ্ছে। ভেনেজুয়েলার অর্থনীতি তেলের উপরে অনেকাংশে নির্ভরশীল। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরোর ঘনিষ্ঠ মহলের অনেকেই জ্বালানি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, তেল বিক্রির রাজস্ব থেকেই অবৈধ কর্মকাণ্ড চালান মাদুরো ওরফে ভেনেজুয়েলার সরকার। তাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ‘সুরক্ষিত’ রাখতে অবিলম্বে ভেনেজুয়েলার ‘মাদক-সন্ত্রাসী’-দের ঝাড়েবংশে নিকেশ করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *