পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে আরও দুটি নৌকায় হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। এতে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছে। এতে গত সেপ্টেম্বর মাস থেকে ক্যারিবীয় সাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরে কথিত মাদকবিরোধী অভিযানে মোট নিহতের সংখ্যা ১০৪ জনে দাঁড়ালো। ধ্বংস নৌকার সংখ্যা ৩০ ছুঁয়েছে।
মার্কিন সেনাবাহিনীর সাউদার্ন কমান্ড (সাউথকম) আজ শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের নির্দেশে বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে আন্তর্জাতিক জলসীমায় দুটি নৌকায় প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়। এতে একটি নৌকায় তিনজন এবং আরেক নৌকায় দুইজন নিহত হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘গোয়েন্দা সংস্থা নিশ্চিত করেছে যে, নৌকাগুলো পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে পরিচিত মাদক-পাচারের রুট ধরে এগোচ্ছিল এবং মাদক-পাচারের কাজে নিয়োজিত ছিল।’ এর আগের দিন বুধবারও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে একটি নৌকায় হামলা চালানো হয়। তাতে ৪ জন নিহত হয় বলে জানায় সাউথকম।
মার্কিন সেনাবাহিনী বলেছে, দুই দিনের হামলায় নিহত ৯ জনই ছিল ‘মাদক-সন্ত্রাসী‘। আগের হামলাগুলোতে নিহতদেরও একই তকমা দেয়া হয়েছে। যদিও ওয়াশিংটন এমন কোনো প্রমাণ দেয়নি বা দিতে পারেনি যে, নিহতরা মাদক পাচারের সাথে জড়িত ছিল।
ল্যাটিন আমেরিকার নেতাদের পাশাপাশি আইন বিশেষজ্ঞরা মার্কিন হামলাগুলোকে ‘বিচারবহির্ভূত হত্যা’ বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ল্যাটিন আমেরিকা থেকে, বিশেষ করে ভেনেজুয়েলা থেকে মাদক পাচার বন্ধ করার জন্য এই হত্যাকাণ্ডগুলোকে ‘প্রয়োজনীয়’ বলে ন্যায্যতা দেয়ার চেষ্টা করছেন।
সম্প্রতি ট্রাম্প ল্যাটিন আমেরিকায় বিশাল সামরিক বহর মোতায়েনের নির্দেশও দিয়েছেন। সেই সঙ্গে মাদক পাচারকারী কার্টেলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এনে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে অপসারণের হুমকি দিয়েছেন।

তবে জাতিসংঘ সতর্ক করেছে, যুক্তরাষ্ট্রকে ক্যারিবীয় এবং পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে তথাকথিত মাদক পাচারকারীদের জাহাজের ওপর হামলা বন্ধ এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড প্রতিরোধ করতে হবে। অক্টোবরের শেষের দিকে জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক বলেন, তথাকথিত মাদকবাহী মানুষদের ‘এমন পরিস্থিতিতে হত্যা করা হয়েছে, যার কোনো যুক্তি আন্তর্জাতিক আইনে পাওয়া যায় না।’
ভলকার তুর্ক বলেন, ‘এই আক্রমণগুলো অগ্রহণযোগ্য। যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই এই ধরনের আক্রমণ বন্ধ করতে হবে এবং এই নৌকাগুলোতে থাকা মানুষদের বিচারবহির্ভূত হত্যা রোধে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা নিতে হবে – তাদের বিরুদ্ধে যে অপরাধমূলক কাজের অভিযোগই থাকুক না কেন।’