কিছু মাস আগেই হঠাৎ করে কুমার শানুর প্রাক্তন স্ত্রী রিতা ভট্টাচার্য দাবি করেন তাঁর প্রাক্তন স্বামী অর্থাৎ গায়ক তাঁকে ভীষণভাবে অত্যাচার করতেন। এমনকি অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় তাকে দিনের পর দিন না খেয়ে রেখে দিতেন বলে দাবি করেছিলেন তিনি। সন্তান জন্মের পরেও সেই অত্যাচার ছিল অব্যাহত। ছেলের জন্য টাকা চাইতে গেলেও বারবার অপমানের সম্মুখীন হতে হয়েছিল তাঁকে।
রিতা ভট্টাচার্য সাক্ষাৎকারে অভিযোগ জানিয়েছিলেন, কুমার শানু নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতেন বলে তাঁকে ঘরের মধ্যে আটকে রেখে দিতেন। সেই সময় বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কেও জড়িয়ে পড়েছিলেন তিনি। বাচ্চাদের দিনের পর দিন খেতে দিতেন না, বাচ্চারা খাবার অর্ডার করলে দোকানদার যাতে খাবার না দেয় তার ব্যবস্থা আগে থেকেই নাকি করে রাখতেন কুমার শানু।প্রাক্তন স্ত্রীর এই অভিযোগের বিরুদ্ধে সেই সময় কিছু না বললেও এবার তাঁর বিরুদ্ধে বম্বে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করলেন গায়ক। চাইলেন মোটা অংকের ক্ষতিপূরণ। কুমার শানু প্রাক্তন স্ত্রীর বিরুদ্ধে যে মানহানির মামলা দায়ের করেছেন সেখানে লেখা রয়েছে, রিতা ভট্টাচার্যের বক্তব্যে গায়কের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে এবং তাঁকে মানসিক চাপের মধ্যে পড়তে হয়েছে।মিথ্যা অভিযোগগুলি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যাওয়ার পর গায়কের পেশাদার মহলে তাঁকে লজ্জিত হতে হচ্ছে, আর্থিকভাবে তিনি বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছেন এবং সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই সমস্ত অভিযোগ করে রিতা ভট্টাচার্যের থেকে ৩০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন কুমার শানু।
তবে শুধুমাত্র কুমার শানুর প্রাক্তন স্ত্রী নয়, খুব সম্প্রতি গায়কের প্রাক্তন প্রেমিকা তথা অভিনেত্রী কনিকা সদানন্দ একটি সাক্ষাৎকারে বেশ কিছু বিস্ফোরক মন্তব্য করেন কুমার শানুকে নিয়ে। যদিও সেই বিষয় নিয়ে কুমার শানু কিছু মন্তব্য করেননি তবে স্ত্রীর করা অভিযোগ তিনি কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না।
প্রসঙ্গত, বলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে কুমার শানুর নাম চিরকাল স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। তিনি এমন একজন গায়ক যিনি বিগত ৪০ বছর ধরে মেলোডি গানে সকলকে মুগ্ধ করে রেখেছেন। কিন্তু ব্যক্তিগত কিছু সমস্যার কারণে এইভাবে তাঁর ভাবমূর্তি নষ্ট হয়ে যাক সেটা তিনি কোনভাবেই চান না আর তাই অবশেষে কোর্টের দ্বারস্থ হলেন তিনি।
