সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশের ‘বিপ্লবী নেতারা’ বারংবার ভারতের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক মন্তব্য দিতে শোনা গিয়েছে। আর এরই মাঝে এবার বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘ এলাকা জুড়ে নোটাম (নোটিস টু এয়ারমেন) জারি করেছে ভারত। রিপোর্ট অনুযায়ী, আগামী ২২ ডিসেম্বর ভোর সাড়ে ৪টে থেকে ২৪ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত জারি থাকবে এই নোটাম। এই সময়কালে এই এলাকা দিয়ে বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। মনে করা হচ্ছে, কোনও দূরপাল্লার মিসাইলের পরীক্ষামূলক নিক্ষেপের জন্যই এই নোটাম জারি করা হয়েছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশাখাপত্তনম থেকে ৩২৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ এলাকা জুড়ে নোটাম জারি করা হয়েছে। এই নোটাম জারির পর থেকেই জল্পনা তৈরি হয় যে ভারত হয়ত সমুদ্রভিত্তিক কোনও মিসাইল পরীক্ষা করতে পারে। যদিও সরকারি ভাবে এই নিয়ে কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি সরকারের তরফ থেকে। তবে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, যে কোনও কৌশলগত পরীক্ষার আগে এই ধরনের নোটাম জারি করা স্বাভাবিক বিষয়। এর আগে ডিসেম্বর ১১ এবং ১৭ থেকে ২০ ডিসেম্বরও বঙ্গোপসাগরে এই একই ধরনের নোটাম জারি করা হয়েছিল ৩৫৫০ কিমি দীর্ঘ এলাকা জুড়ে।
এর আগে গত ২০ অগস্ট ইন্টারমিডিয়েট রেঞ্জের অগ্নি-৫ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা করে ভারত। ওড়িশার এপিজে আবদুল কালাম দ্বীপ থেকে এই মিসাইলের পরীক্ষণ হয়। এই মিসাইলটি দিঘা, এমনকী বাংলাদেশ থেকেও দেখা গিয়েছিল। অনেকেই সেই মিসাইলের ভিডিয়ো করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে এমনই দাবি করেছিলেন। সেই সময় এক ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছিল, দূরে মিসাইল উড়ে যাচ্ছে আকাশে। ব্যাকগ্রাউন্ডে বলতে শোনা যাচ্ছে, ‘রকেট! রকেট! ইন্ডিয়া আজকে আবার লঞ্চ করসে নাকি?’ দাবি করা হয়েছিল, ভিডিয়োটি বাংলাদেশ থেকে তোলা হয়। এদিকে বাংলাদেশি প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস এর আগে চিনে গিয়ে বাংলাদেশকে ‘উত্তরপূর্ব ভারতের সমুদ্রের গার্ডিয়ান’ বলে অভিহিত করেছিলেন। তবে বঙ্গোপসাগরের আসল ‘গার্ডিয়ান’ কে, তা সাম্প্রতিককালে স্পষ্ট করে দিয়েছে ভারত।
