অসমের কাছাড় জেলার শিলচর বাইপাসে গণধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ২৮ বছর বয়সি এক তরুণীকে প্রেমিকের সামনে ৭ জন ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, ধর্ষণের পরে তাদের চাপের মুখে ওই তরুণীকে ১০ হাজার টাকা এক অভিযুক্তের অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করতে বাধ্য করা হয়।
সংবাদ সংস্থা পিটিআই-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ঘটেছে এই ঘটনা। নির্যাতিতার বয়ানের উপরে ভিত্তি করে শিলচর সদর থানায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, নির্যাতিতা দু’জনকে শনাক্ত করেছেন এবং রবিবার তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের খোঁজে জোরদার তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।
‘এক এক করে ধর্ষণ করেছে’
নির্যাতিতার পরিবারের সদস্যদের দাবি, ঘটনার রাতে ওই তরুণী তাঁর প্রেমিকের সঙ্গে শিলচর বাইপাস রোডের ধারে একটি গাড়িতে বসেছিলেন। অভিযোগ, সেই সময় একটি এসইউভি-তে চড়ে সাত জন যুবক সেখানে পৌঁছয়। তারা প্রথমে ওই যুগলের পরিচয় এবং তারা কোথা থেকে এসেছে তা জানতে চায়। এরপর হঠাৎ করেই তরুণী ও তাঁর প্রেমিককে জাপটে ধরে। সেখানে ৭ জন লোক ছিল। তাদের মধ্যে কয়েকজন ওই যুবককে আটকে রাখে এবং তাঁর চোখের সামনেই একে একে তরুণীকে ধর্ষণ করে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ওই তরুণীর প্রয়োজনীয় ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং তাঁর জবানবন্দিও রেকর্ড করা হয়েছে। তবে ভয়াবহ এই ঘটনার পর থানায় অভিযোগ জানানো হলেও প্রথমে পুলিশ কোনও উচ্চবাচ্য করেনি। এদিকে, এক সাংবাদিক এই ঘটনা নিয়ে রিপোর্ট করায় অভিযুক্তরা তাঁকেও ব্যাপক মারধোর করে বলে অভিযোগ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এক্ষেত্রে আরও এক জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
অন্যদিকে, এই নৃশংস ঘটনার খবর জানাজানি হতেই সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। হাজার হাজার স্থানীয় মানুষ সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছেন। এই ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ সুস্মিতা দেব স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে দেখা করে দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এই আবহে পুলিশের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে সামাজিক মাধ্যমে কোনও রকম গুজব না ছড়ানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।

১০ হাজার টাকা লুট
নির্যাতিতা পুলিশকে জানিয়েছেন, ঘটনাটি ঘটেছে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি। কমপক্ষে সাতজন ব্যক্তি একে একে তাঁকে ধর্ষণ করে। এরপর তারা জোরপূর্বক তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে ১০,০০০ টাকা অনলাইনে একজনের অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করিয়ে নেয়। শিলচর সদর থানায় ইতিমধ্যেই গণধর্ষণ, ডাকাতি ও তোলাবাজির ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। এদিকে, সুস্মিতা দেব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ লিখেছেন, ‘অসমের শিলচরে গণধর্ষণের এই খবর অত্যন্ত উদ্বেগজনক। অসমের মুখ্যমন্ত্রী নিজেই রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বিজেপি যখন অন্য রাজ্যগুলোতে নারী নিরাপত্তা নিয়ে রাজনীতি করে, তখন তাদের নিজেদের রাজ্যই অনিরাপদ। নির্বাচনের জন্য ভিআইপি চলাচলে পূর্ণ নিরাপত্তা দেওয়া হলেও সাধারণ মানুষ এখানে অসুরক্ষিত।’