‘ভালো জীবনের লোভ দেখিয়ে যৌনচক্র ও ধর্মান্তকরণ’

Spread the love

ভালো জীবনের প্রতিশ্রুতির আড়ালেই চলছিল এক ভয়ঙ্কর অপরাধের জাল। চাকরি ও উন্নত জীবনের টোপ দিয়ে দুর্বল ও আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া তরুণীদের ফাঁদে ফেলা হত। তারপর চলত লাগাতার যৌন শোষণ এবং ধর্ম পরিবর্তনের চাপ। এমনই অভিযোগ উঠল। সম্প্রতি মধ্যপ্রদেশের ভোপালে এমনই চক্রের পর্দাফাঁস করল পুলিশ। এই চক্র চালানোর মূল পাণ্ডা হিসেবে আফরিন এবং আমরিন নামের দুই বোনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

জানা গেছে, রবিবার রাতে ২১ এবং ৩২ বছর বয়সি দুই তরুণী পৃথক কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে একই রকম অভিযোগ নিয়ে বাগসেওয়ানিয়া থানায় আসেন। তাঁদের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে দুই বোন আমরিন, আফরিন এবং তাদের সহযোগী চন্দন যাদবকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এই চক্রের বাকি তিন অভিযুক্ত বিলাল, চানু এবং ইয়াসির এখনও পলাতক। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এক সময় আব্বাস নগরের একটি বস্তির ছোট ঘরে থাকা দুই বোন সম্প্রতি ভোপালের সাগর রয়েল ভিলাসের একটি বিলাসবহুল ভিলায় বসবাস করছে। তদন্তকারীদের অনুমান, অসহায় তরুণীদের মাধ্যমে অর্জিত অবৈধ আয়ের মাধ্যমে এই বিলাসবহুল ভিলা কিনেছিল দুই বোন। পুলিশ জানিয়েছে, এই দুই বোন আর্থিকভারে দুর্বল এমন তরুণীদের টার্গেট করত। এরপর তাঁদেরকে প্রতি মাসে ১০,০০০ টাকা বেতনের তোপ দিয়ে গৃহস্থালির কাজ, বিনামূল্যে থাকার ও খাবার ব্যবস্থার প্রস্তাব দিত। কিন্তু কাজের নাম অসহায় তরুণীদের সঙ্গে তাঁরা যা করত তা স্বপ্নেরও অতীত।

দুই অভিযোগকারী জানিয়েছেন, কাদের নামে তাঁদের ধীরে ধীরে পার্টি, পাব এবং লাউঞ্জে নিয়ে যায় ওই দুই বোন। যেখানে ধনী ব্যক্তিদের সঙ্গে মেলামেশা করার জন্য তাঁদের উপরে চাপ দেওয়া হতো। এফআইআরে বলা হয়েছে যে ওই তরুণীদের মদ্যপান করতে এবং এমডি ড্রাগ নিতেও বাধ্য করা হয়েছিল। এমনকী, একাধিকবার তাঁদের মদ্যপান করিয়ে যৌন নির্যাতন করা হয়। ছত্তিশগড়ের মুঙ্গেলি জেলার অভিযোগকারী দাবি করেছেন যে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তাকে কাজের প্রলোভন দেখিয়ে আহমেদাবাদে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আমরিনের আত্মীয় ইয়াসির তাঁকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। তাঁর আরও অভিযোগ, বিলাল এবং চানু বিভিন্ন সময়ে তাঁকে নির্যাতন করেছে। অন্যদিকে, দ্বিতীয় অভিযোগকারী ভোপালের বাসিন্দা এবং আমরিনের বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করতেন। তিনি পুলিশকে জানিয়েছেন, আমরিন তাঁকে বাড়িতে একা রেখে যাওয়ার পর চন্দন যাদব তাঁকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ। প্রতিবাদ করলে গোপন মুহূর্তের ছবি দিয়ে চলত ব্ল্যাকমেলিং।

এফআইআর অনুসারে, অভিযুক্ত চন্দন যাদব ওই তরুণীদের একজনকে বলেছিলেন, ‘আমি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছি। তুমিও মুসলিম হয়ে যাও। আমি তোমাকে একটি ভালো পরিবারে বিয়ে দেব।’ অভিযোগকারী জানিয়েছেন যে তিনি চাপের মুখে ধর্মান্তরিত হয়েছিলেন। পরে তাঁকে বোরখা এবং নমাজ পড়তে বাধ্য করা হয়েছিল। পুলিশ জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণ এবং ধর্ষণ সম্পর্কিত প্রাসঙ্গিক ধারায় মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে। অতিরিক্ত ডিসিপি গৌতম সোলাঙ্কি নিশ্চিত করেছেন যে এই ঘটনায় ইতিমধ্যে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *